ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ভালোবাসার বহুভুজ: একজন মানুষ একসঙ্গে কতজনকে ভালোবাসতে পারে?

প্রেমের জালে মানুষ প্রায়শই ফাঁদ পড়ে—কখনও সচেতনভাবে, কখনও নিজের অজান্তে। এই অনুভূতি মানুষকে নানা কর্মকাণ্ডে উত্সাহিত করে। কেউ ঝুঁকি নেয় জীবন দিয়ে, কেউ কঠিন সাধনায় মনোনিবেশ করে। আবার কেউ ভালোবাসার কারণে সমাজের চোখে কলঙ্কিতও হয়।

ভালোবাসা যত সরল মনে হয়, ততই জটিল। আমাদের মন নিজেই এই অনুভূতির পথ খুঁজে পায় না। কখনো আমরা নিজেও বুঝি না, কখন কার প্রেমে পড়বো। এমনকি অনেকের ক্ষেত্রে, একজনের সঙ্গে সম্পর্ক আবদ্ধ থাকা অবস্থায়ও অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ জন্মায়।

অনেকের মনেই প্রশ্ন—প্রেম মানেই কি শুধু একজনের জন্য একরাশ আবেগ? এককাধিকারী কি শুধুমাত্র সেই একজনের?

যদি একজনের মনে একাধিক ব্যক্তির জন্য স্থান থাকে, তবে সমাজ প্রায়শই জবাবদিহি, সমালোচনা ও চরিত্রের প্রশ্নে ফেলে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটি কি সত্যিই অন্যায়?

এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে মনোবিদদের বিভিন্ন গবেষণায়। যেখানে দেখা গেছে, মানুষের মন প্রায়ই একাধিক ব্যক্তির প্রতি টান অনুভব করে। কেউ কেউ সেই টানকে সম্পর্ক পর্যন্ত নিয়ে যায়, কেউবা সামাজিক ভয় বা নীতি-নিয়মের কারণে থেমে যায়।

যখন মানুষ একসঙ্গে তার সঙ্গীকে ভালোবাসার পাশাপাশি অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে, তখন মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় পলিঅ্যামোরি বা কনসেন্সুয়াল ননমোনোগ্যামি।

মনোবিদরা বলছেন, মানুষ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গঠিত। একজনের সব প্রিয় বৈশিষ্ট্য একইসঙ্গে এক মানুষে মিলবে না—ফলে একাধিক ব্যক্তির প্রতি ভালো লাগা স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিতে পারে। এমন মনোবৃত্তি অস্বাভাবিক নয়, এবং পিটুইটারি গ্রন্থি ও ‘ফিল গুড’ হরমোনও এতে ভূমিকা রাখে।

তবে বাস্তব জীবনে এই অনুভূতির ফলপ্রসূ দিকও আছে, এবং জটিল দিকও। কখনো কখনো এটি পারিবারিক বা সামাজিক জীবনে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কেউ কেউ নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, আবার অনেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একাধিক সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সমীচীন।

গবেষণা বলছে, যারা পলিঅ্যামোরির জটিলতায় ভুগছেন, অনেকেই তা নিজের অজান্তেই। তাই সম্পর্কের মধ্যে যদি অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ জন্মায়, খোলাখুলি আলোচনা এবং স্বচ্ছতা রাখা জরুরি।

মনোবিদরা বলছেন, জন্মগতভাবেই মানুষ একসঙ্গে দু’জনকে অর্থাৎ মা ও বাবাকে—ভালোবাসে। তাই একাধিক ভালোবাসা সম্ভব, কিন্তু যখন সম্পর্ক বা দাম্পত্য আসে, তখন সমাজের নিয়ম ও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি আমাদের সতর্ক করে। সম্পর্ক কেবল শারীরিক নয়; মনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের সমাজ এখনও ভালোবাসা এবং যৌনতা আলাদা করে দেখার ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়। তাই একাধিক ভালোবাসার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি স্বাভাবিক। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ভালোবাসা ও যৌনতা সবসময় এক নয়। কিছু ভালোবাসা হয় গৃহসদৃশ, যেখানে স্বাধীনতার স্বাদ মেলে, আবার কিছু হয় সপ্তাহান্তে দেখা পাওয়ার আনন্দের মতো। প্রতিটি মানুষের জন্য তার প্রিয় ভালোবাসার ধরন নির্বাচন করার স্বাধীনতা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাতে প্রতিটি উপজেলায় হচ্ছে আধুনিক পরীক্ষা কেন্দ্র

ভালোবাসার বহুভুজ: একজন মানুষ একসঙ্গে কতজনকে ভালোবাসতে পারে?

আপডেট সময় : ০১:৫২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

প্রেমের জালে মানুষ প্রায়শই ফাঁদ পড়ে—কখনও সচেতনভাবে, কখনও নিজের অজান্তে। এই অনুভূতি মানুষকে নানা কর্মকাণ্ডে উত্সাহিত করে। কেউ ঝুঁকি নেয় জীবন দিয়ে, কেউ কঠিন সাধনায় মনোনিবেশ করে। আবার কেউ ভালোবাসার কারণে সমাজের চোখে কলঙ্কিতও হয়।

ভালোবাসা যত সরল মনে হয়, ততই জটিল। আমাদের মন নিজেই এই অনুভূতির পথ খুঁজে পায় না। কখনো আমরা নিজেও বুঝি না, কখন কার প্রেমে পড়বো। এমনকি অনেকের ক্ষেত্রে, একজনের সঙ্গে সম্পর্ক আবদ্ধ থাকা অবস্থায়ও অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ জন্মায়।

অনেকের মনেই প্রশ্ন—প্রেম মানেই কি শুধু একজনের জন্য একরাশ আবেগ? এককাধিকারী কি শুধুমাত্র সেই একজনের?

যদি একজনের মনে একাধিক ব্যক্তির জন্য স্থান থাকে, তবে সমাজ প্রায়শই জবাবদিহি, সমালোচনা ও চরিত্রের প্রশ্নে ফেলে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটি কি সত্যিই অন্যায়?

এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে মনোবিদদের বিভিন্ন গবেষণায়। যেখানে দেখা গেছে, মানুষের মন প্রায়ই একাধিক ব্যক্তির প্রতি টান অনুভব করে। কেউ কেউ সেই টানকে সম্পর্ক পর্যন্ত নিয়ে যায়, কেউবা সামাজিক ভয় বা নীতি-নিয়মের কারণে থেমে যায়।

যখন মানুষ একসঙ্গে তার সঙ্গীকে ভালোবাসার পাশাপাশি অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে, তখন মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় পলিঅ্যামোরি বা কনসেন্সুয়াল ননমোনোগ্যামি।

মনোবিদরা বলছেন, মানুষ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গঠিত। একজনের সব প্রিয় বৈশিষ্ট্য একইসঙ্গে এক মানুষে মিলবে না—ফলে একাধিক ব্যক্তির প্রতি ভালো লাগা স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিতে পারে। এমন মনোবৃত্তি অস্বাভাবিক নয়, এবং পিটুইটারি গ্রন্থি ও ‘ফিল গুড’ হরমোনও এতে ভূমিকা রাখে।

তবে বাস্তব জীবনে এই অনুভূতির ফলপ্রসূ দিকও আছে, এবং জটিল দিকও। কখনো কখনো এটি পারিবারিক বা সামাজিক জীবনে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কেউ কেউ নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, আবার অনেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একাধিক সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সমীচীন।

গবেষণা বলছে, যারা পলিঅ্যামোরির জটিলতায় ভুগছেন, অনেকেই তা নিজের অজান্তেই। তাই সম্পর্কের মধ্যে যদি অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ জন্মায়, খোলাখুলি আলোচনা এবং স্বচ্ছতা রাখা জরুরি।

মনোবিদরা বলছেন, জন্মগতভাবেই মানুষ একসঙ্গে দু’জনকে অর্থাৎ মা ও বাবাকে—ভালোবাসে। তাই একাধিক ভালোবাসা সম্ভব, কিন্তু যখন সম্পর্ক বা দাম্পত্য আসে, তখন সমাজের নিয়ম ও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি আমাদের সতর্ক করে। সম্পর্ক কেবল শারীরিক নয়; মনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের সমাজ এখনও ভালোবাসা এবং যৌনতা আলাদা করে দেখার ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়। তাই একাধিক ভালোবাসার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি স্বাভাবিক। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ভালোবাসা ও যৌনতা সবসময় এক নয়। কিছু ভালোবাসা হয় গৃহসদৃশ, যেখানে স্বাধীনতার স্বাদ মেলে, আবার কিছু হয় সপ্তাহান্তে দেখা পাওয়ার আনন্দের মতো। প্রতিটি মানুষের জন্য তার প্রিয় ভালোবাসার ধরন নির্বাচন করার স্বাধীনতা রয়েছে।