ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

বাউলার গানে প্রবাসীদের হাহাকার: ‘বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা মা’ ছুঁয়ে গেল কোটি হৃদয়

দেশের জনপ্রিয় লোকগানের দল ‘বাউলা’ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে তাদের নতুন গান ‘বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা মা’। প্রবাসীদের হৃদয়ের গভীরতম আর্তি, মাতৃভূমি ও মায়ের প্রতি তাদের অদম্য ভালোবাসার গল্প উঠে এসেছে এই গানে। প্রকাশের পরপরই দেশ ও বিদেশের অগণিত শ্রোতার মন ছুঁয়ে গেছে গানটি, যা প্রবাস জীবনের নিঃসঙ্গতা ও আকুলতাকে সুরে সুরে ফুটিয়ে তুলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাঙালি শ্রোতাদের অনুরোধ ছিল, তাদের না বলা কথাগুলো যেন গানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। সেই অনুরোধ ও প্রবাসীদের জীবনযাপনের গভীর পর্যবেক্ষণ থেকেই ‘বাউলা’ তৈরি করেছে এই গান। ব্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা মা’ নিছকই একটি গান নয়, বরং এটি প্রবাসে নিঃসঙ্গ কাটানো সন্ধ্যা, ভিডিও কলে মায়ের মুখ দেখে নীরবে অশ্রু ঝরানো সন্তানের আর্তি এবং ব্যস্ত শহরের কোলাহলে গ্রামীণ শিউলি-ঝরা ভোরের স্মৃতিচারণার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক সাইফুল ইসলাম মান্নু গানটির কথা লিখেছেন ও সুরারোপ করেছেন। তার লেখনীতে প্রবাস জীবনের টানাপোড়েন এবং সুরে লোকজ আবেগের গভীরতা নিপুণভাবে উঠে এসেছে। ‘বাউলা’ ব্যান্ডের প্রধান প্রকাশ আর্টিস্ট এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, যেখানে এক অভিমানী সন্তানের আকুল আর্তি ‘মা, বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা’ জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

গানে যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন একদল প্রতিভাবান শিল্পী। হারমোনিয়ামে রবিন সরকার, ঢোলে মাসুম ও সাঈদ আহম্মেদ, বাঁশিতে আশিকুল, গিটারে ইকে মজুমদার ইস্তি, বেইজ গিটারে অনুপ এবং পারকাশনে সোহেল সুরের মূর্ছনা ছড়িয়েছেন। রবিন সরকার ও ইকে মজুমদার ইস্তি যৌথভাবে সংগীতায়োজন করেছেন। গানের দৃশ্যায়নে চিত্র পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন রাইসুল ইসলাম অনিক, যিনি গানের গভীর আবেগকে দৃশ্যপটে তুলে ধরেছেন সযত্ন মমতা ও মাটির স্পর্শে।

প্রকাশ আর্টিস্ট এই গান প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা প্রবাসীদের মনের গভীরে লুকানো না বলা কথাগুলোকে সুরের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে প্রবাসীরা বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যে অর্থ পাঠান, তা আমাদের দেশ, পরিবার ও সমাজকে উপকৃত করে। কিন্তু তাদের বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্ট, নিঃসঙ্গতা এবং মায়ের জন্য আকুলতার গল্প আমরা কতটুকু জানি? এই গানে আমরা সেই অদেখা অনুভূতির ভাষাই তুলে ধরেছি।”

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গানটি মুক্তি পেয়েছে। প্রকাশের পরপরই এটি দেশ-বিদেশের অসংখ্য শ্রোতাদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে, যা গানের বিষয়বস্তুর গভীরতা এবং প্রবাসীদের প্রতি সমাজের সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাক্তন মন্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের পর: ইরানে নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগ

বাউলার গানে প্রবাসীদের হাহাকার: ‘বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা মা’ ছুঁয়ে গেল কোটি হৃদয়

আপডেট সময় : ০৫:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

দেশের জনপ্রিয় লোকগানের দল ‘বাউলা’ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে তাদের নতুন গান ‘বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা মা’। প্রবাসীদের হৃদয়ের গভীরতম আর্তি, মাতৃভূমি ও মায়ের প্রতি তাদের অদম্য ভালোবাসার গল্প উঠে এসেছে এই গানে। প্রকাশের পরপরই দেশ ও বিদেশের অগণিত শ্রোতার মন ছুঁয়ে গেছে গানটি, যা প্রবাস জীবনের নিঃসঙ্গতা ও আকুলতাকে সুরে সুরে ফুটিয়ে তুলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী বাঙালি শ্রোতাদের অনুরোধ ছিল, তাদের না বলা কথাগুলো যেন গানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। সেই অনুরোধ ও প্রবাসীদের জীবনযাপনের গভীর পর্যবেক্ষণ থেকেই ‘বাউলা’ তৈরি করেছে এই গান। ব্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা মা’ নিছকই একটি গান নয়, বরং এটি প্রবাসে নিঃসঙ্গ কাটানো সন্ধ্যা, ভিডিও কলে মায়ের মুখ দেখে নীরবে অশ্রু ঝরানো সন্তানের আর্তি এবং ব্যস্ত শহরের কোলাহলে গ্রামীণ শিউলি-ঝরা ভোরের স্মৃতিচারণার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক সাইফুল ইসলাম মান্নু গানটির কথা লিখেছেন ও সুরারোপ করেছেন। তার লেখনীতে প্রবাস জীবনের টানাপোড়েন এবং সুরে লোকজ আবেগের গভীরতা নিপুণভাবে উঠে এসেছে। ‘বাউলা’ ব্যান্ডের প্রধান প্রকাশ আর্টিস্ট এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, যেখানে এক অভিমানী সন্তানের আকুল আর্তি ‘মা, বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা’ জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

গানে যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন একদল প্রতিভাবান শিল্পী। হারমোনিয়ামে রবিন সরকার, ঢোলে মাসুম ও সাঈদ আহম্মেদ, বাঁশিতে আশিকুল, গিটারে ইকে মজুমদার ইস্তি, বেইজ গিটারে অনুপ এবং পারকাশনে সোহেল সুরের মূর্ছনা ছড়িয়েছেন। রবিন সরকার ও ইকে মজুমদার ইস্তি যৌথভাবে সংগীতায়োজন করেছেন। গানের দৃশ্যায়নে চিত্র পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন রাইসুল ইসলাম অনিক, যিনি গানের গভীর আবেগকে দৃশ্যপটে তুলে ধরেছেন সযত্ন মমতা ও মাটির স্পর্শে।

প্রকাশ আর্টিস্ট এই গান প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা প্রবাসীদের মনের গভীরে লুকানো না বলা কথাগুলোকে সুরের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে প্রবাসীরা বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যে অর্থ পাঠান, তা আমাদের দেশ, পরিবার ও সমাজকে উপকৃত করে। কিন্তু তাদের বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্ট, নিঃসঙ্গতা এবং মায়ের জন্য আকুলতার গল্প আমরা কতটুকু জানি? এই গানে আমরা সেই অদেখা অনুভূতির ভাষাই তুলে ধরেছি।”

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গানটি মুক্তি পেয়েছে। প্রকাশের পরপরই এটি দেশ-বিদেশের অসংখ্য শ্রোতাদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে, যা গানের বিষয়বস্তুর গভীরতা এবং প্রবাসীদের প্রতি সমাজের সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।