## শিরোনাম: পেঁয়াজ ক্ষেতে তান্ডব: কৃষকের স্বপ্ন ভাঙছে দুর্বৃত্তের হাতে
রাজবাড়ী: রাজবাড়ী জেলায় পেঁয়াজ চাষিরা এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পড়েছেন। রাতের আঁধারে একদল দুষ্কৃতিকারী আবাদি পেঁয়াজ ক্ষেতে তাণ্ডব চালিয়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
বিস্তারিত:
সম্প্রতি, রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মরজোৎকোল গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন সেখের দুই বিঘা জমির পেঁয়াজের কদম কেটে ও মাড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। একই দিনে বালিয়াকান্দি উপজেলার কয়েকটি মৌজায়ও পেঁয়াজের কদমসহ গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। তবে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নে, যেখানে বিশাল এলাকাজুড়ে প্রায় ২৫ একর জমির উঠতি পেঁয়াজ ঘাসমারা বিষ স্প্রে করে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই ২৫ একর জমিতে প্রায় ১০০ জন কৃষক “হালির পেঁয়াজ” রোপণ করেছিলেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হাকিম জানান, তিনি ৫ একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন এবং মাত্র ১৫-২০ দিন পরেই তা তোলার উপযোগী হতো। কিন্তু দুষ্কৃতিকারীদের বিষ স্প্রে করার ফলে তার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। অপর কৃষক আনিসুর রহমান বলেন, ধারদেনা করে ৬০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেছিলেন। এভাবে ক্ষতি হবে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
রাজবাড়ী সদরের আলাউদ্দিন সেখের পেঁয়াজের ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, কদম আসা পেঁয়াজের গাছগুলো কোথাও আংশিক আবার কোথাও সম্পূর্ণভাবে কেটে ও মাড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে। আলাউদ্দিন সেখ জানান, তিনি উন্নত জাতের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বীজ সংগ্রহ করেছিলেন। ফিরোজ মিয়ার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ একর জমি বার্ষিক ১৫ হাজার টাকা বিঘায় লিজ নিয়ে তিনি “বেগম” জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন, যা আমেরিকান বীজ থেকে উৎপাদিত। এই ক্ষেত থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার বীজ উৎপাদন হওয়ার আশা ছিল তার। এছাড়াও, এই জমি থেকে পেঁয়াজের দানা বিক্রি করে কোটি টাকার রোজগারের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। বর্তমানে, কদমের পরাগায়নের সময় হওয়ায় এবং মাঠে মৌমাছি না থাকায় কৃত্রিমভাবে পরাগায়নের জন্য অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে।
বালিয়াকান্দিতে পেঁয়াজ নষ্টের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। রাজবাড়ী সদরের কৃষি অফিসারও সরেজমিনে পরিদর্শন করে কৃষকদের দুর্দশা দেখে প্রতিকারের আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম এই ঘটনাকে “জেলার পেঁয়াজ চাষিদের নিরুৎসাহিত করার অপকৌশল” বলে অভিহিত করেছেন এবং এটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে জেলা সমন্বয় সভায় গুরুত্বসহকারে উত্থাপনের কথা জানিয়েছেন।
বালিয়াকান্দির পেঁয়াজ চাষিরা রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন। তিনি সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে থানার অফিসারদের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ঘটনা রাজবাড়ীর পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















