ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সামাজিক ইফতার বন্ধে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ পাঠানোর অভিযোগ, অস্বীকার মামুনের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি সামাজিক সংগঠনের ইফতার মাহফিল বন্ধ করতে থানায় অভিযোগ দিয়ে পুলিশ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গত শনিবার (তারিখ উল্লেখ না করে) দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে ইফতার আয়োজন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও, পরে তদন্তে সামাজিক অনুষ্ঠান প্রমাণিত হওয়ায় আয়োজকদের অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে বলা হয়। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল আবাসিক এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে এলাকার বাড়িওয়ালা, গণ্যমান্য ব্যক্তি, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আয়োজকদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সামাজিক উদ্যোগ।

হঠাৎ করেই গত শনিবার দুপুরে থানার একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে এসে মৌখিকভাবে ইফতার আয়োজন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। পুলিশ জানায়, সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। পরে আয়োজকরা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইউসুফ রশীদ জানান, তাদের অরাজনৈতিক সামাজিক উদ্যোগে বাধা সৃষ্টির বিষয়টি বিদ্যুৎ মামুন (আব্দুল্লাহ আল মামুন) পক্ষের আপত্তির কারণেই ঘটেছে বলে তারা জানতে পারেন।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, মিজানুর রহমান নামে একজন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ পাঠানো হয়। তদন্তে দেখা যায়, এটি একটি সামাজিক ইফতার অনুষ্ঠান এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির সংশ্লিষ্টতা নেই। এরপর আয়োজকদের অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে বলা হয় এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।

অভিযোগদাতা হিসেবে নাম আসা মিজানুর রহমান জানান, বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি তার চাচা, তার কথাতেই তিনি অভিযোগপত্রটি জমা দেন। তিনি শুরুতে অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাননি বলেও জানান। এছাড়া, অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা মামুনের মোবাইল নম্বরও দেওয়া ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, ইফতার মাহফিল বন্ধের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি কোনো অভিযোগও দেননি। বরং তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইউসুফ রশীদ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এবং তিনি সংগঠন দখল করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। মামুনের দাবি, ইউসুফ নির্বাচিত কমিটির সদস্য নন এবং প্রবাসে অবস্থান করেও সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। ইফতার আয়োজন ঘিরে সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মামুন বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কা ছিল। তবে বিএনপির কোন গ্রুপ অনুষ্ঠান বন্ধে আপত্তি তুলেছে, তা খতিয়ে দেখতে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন মিত্ররা লক্ষ্যবস্তু

সামাজিক ইফতার বন্ধে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ পাঠানোর অভিযোগ, অস্বীকার মামুনের

আপডেট সময় : ০৬:২৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি সামাজিক সংগঠনের ইফতার মাহফিল বন্ধ করতে থানায় অভিযোগ দিয়ে পুলিশ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গত শনিবার (তারিখ উল্লেখ না করে) দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে ইফতার আয়োজন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও, পরে তদন্তে সামাজিক অনুষ্ঠান প্রমাণিত হওয়ায় আয়োজকদের অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে বলা হয়। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল আবাসিক এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে এলাকার বাড়িওয়ালা, গণ্যমান্য ব্যক্তি, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আয়োজকদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সামাজিক উদ্যোগ।

হঠাৎ করেই গত শনিবার দুপুরে থানার একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে এসে মৌখিকভাবে ইফতার আয়োজন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। পুলিশ জানায়, সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। পরে আয়োজকরা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইউসুফ রশীদ জানান, তাদের অরাজনৈতিক সামাজিক উদ্যোগে বাধা সৃষ্টির বিষয়টি বিদ্যুৎ মামুন (আব্দুল্লাহ আল মামুন) পক্ষের আপত্তির কারণেই ঘটেছে বলে তারা জানতে পারেন।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, মিজানুর রহমান নামে একজন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ পাঠানো হয়। তদন্তে দেখা যায়, এটি একটি সামাজিক ইফতার অনুষ্ঠান এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির সংশ্লিষ্টতা নেই। এরপর আয়োজকদের অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে বলা হয় এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।

অভিযোগদাতা হিসেবে নাম আসা মিজানুর রহমান জানান, বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি তার চাচা, তার কথাতেই তিনি অভিযোগপত্রটি জমা দেন। তিনি শুরুতে অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাননি বলেও জানান। এছাড়া, অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা মামুনের মোবাইল নম্বরও দেওয়া ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, ইফতার মাহফিল বন্ধের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি কোনো অভিযোগও দেননি। বরং তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইউসুফ রশীদ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এবং তিনি সংগঠন দখল করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। মামুনের দাবি, ইউসুফ নির্বাচিত কমিটির সদস্য নন এবং প্রবাসে অবস্থান করেও সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। ইফতার আয়োজন ঘিরে সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মামুন বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কা ছিল। তবে বিএনপির কোন গ্রুপ অনুষ্ঠান বন্ধে আপত্তি তুলেছে, তা খতিয়ে দেখতে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।