মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, এই অঞ্চলের সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। এই মন্তব্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন কমান্ডার, নাম উল্লেখ না করে, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যেন কোনো ভুল পদক্ষেপ না নেয়। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী যে, শত্রুদের যেকোনো ধরনের উসকানির জবাব দেওয়ার সক্ষমতা আমরা রাখি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে ঘাঁটিগুলো রয়েছে, তার প্রত্যেকটি আমাদের নজরদারিতে এবং প্রয়োজনে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে তেহরান পাল্টা জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল এবং ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন স্বার্থের ওপর হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে, যার মধ্যে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি স্থাপন অন্যতম। ইরানের কাছে এই উপস্থিতি একটি সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই হুঁশিয়ারি মূলত তাদের প্রতিরোধমূলক কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে তেহরান বোঝাতে চাইছে যে, তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন সহ্য করবে না। ইরানের সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, এই অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী বলে বিবেচিত। তাদের হাতে এমন সব ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম।
এই কঠোর বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেক দেশই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই হুমকির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা ছোটখাটো ঘটনাকেও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ দিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।
রিপোর্টারের নাম 























