বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও ফ্যাসিলিটিজ কমিটির চেয়ারম্যান শাহনিয়ান তানিম সম্প্রতি বগুড়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) একটি ম্যাচ পরিদর্শনে গিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সাংগঠনিক কাঠামো এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে নিজের হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, বোর্ডের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ধীর প্রক্রিয়া তাঁর উন্নয়নমূলক কাজের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তাঁর মেয়াদে পরিকল্পনার মাত্র দশ শতাংশ কাজও সম্পন্ন করতে পারেননি।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তানিম বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে এভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত নই। বিসিবির নিয়মকানুন এবং কর্পোরেট জগতের মতো জটিল প্রক্রিয়া মেনে চলতে গিয়ে আমি প্রায়শই আটকে যাই। যদি আমার নিজের মতো করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করার স্বাধীনতা থাকত, তাহলে হয়তো আজ ড্রেনেজ সিস্টেম উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিলে কাল থেকেই কাজ শুরু হয়ে যেত।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কিন্তু দিনের শেষে আমাকেও জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হয়। যেকোনো প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দ, বোর্ডে অনুমোদন এবং তারপর বিভিন্ন স্তরে জমা দিয়ে ছাড়পত্র পেতে হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ভেন্ডর নিয়োগ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি অন্যদের ওপর নির্ভরশীল। কর্পোরেট জগতে এটাই নিয়ম হতে পারে, তবে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হলে ভালো হতো। এই চার-পাঁচ মাসে আমি আমার কাজের মাত্র দশ শতাংশও শেষ করতে পারিনি।”
পরিচালক হওয়ার পর তিনি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী—এই তিন ধরনের পরিকল্পনা করেছিলেন। স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অধীনেও অনেক উদ্যোগ ছিল, যা আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচে আটকে আছে বলে তিনি জানান।
শাহনিয়ান তানিম স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করছি না। তবে নিয়মের বেড়াজালে কাজ আটকে থাকছে, যা কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ এভাবেই চলে—এই বাস্তবতা হতাশাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে কাজ করতে গেলে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টিও আসে। সাধারণ কোনো কাজ করতে চাইলেও অনেকেই মনে করে এতে ব্যক্তিগত লাভের সুযোগ আছে। বিসিবি পরিচালকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠা সত্যিই দুঃখজনক।”
রিপোর্টারের নাম 
























