রংপুরের বদরগঞ্জে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে প্রায় ৪০ একর জমির ধানের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের হাজীপুর এলাকায় জিবিএল নামক একটি ইটভাটার আশেপাশে এই ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অবৈধ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ধানের গাছগুলো হলদে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে এবং ধানের শীষগুলো পুড়ে ও বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। তারা আরও জানান, ভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া সরাসরি জমির ওপর পড়ায় ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে এবং অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার কথা জানিয়ে এলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন জানান, ভাটা মালিক সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মাজেদ আলী। তার সঙ্গে কথা বললেও তিনি কোনো কর্ণপাত করছেন না এবং তার দাবি, ইটভাটার কারণে ধানক্ষেত নষ্ট হয়নি, বরং অন্য কোনো কারণে এমনটা হয়েছে। বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী মেম্বার বলেন, প্রভাবশালী নেতা মাজেদ আলীর জিবিএল ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়ার কারণে এই এলাকার অনেক কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভাটা মালিকের ভয়ে এবং সরকারি দলের প্রভাবের কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জিবিএল ইটভাটার মালিক মাজেদ আলী মেম্বার বলেন, তার ইটভাটায় এখনো আগুন রয়েছে এবং ইটভাটার গ্যাসে ধানক্ষেত নষ্ট হওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা এসে কিছু ধান গাছ পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, যদি তার ইটভাটার গ্যাসের কারণে ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে থাকে, তবে তিনি ক্ষতিপূরণ দিতে প্রস্তুত। পরিবেশবিদরা বলছেন, নিয়ম মেনে ইটভাটা পরিচালনা না করার ফলেই এমন ক্ষতি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি ও পরিবেশের জন্য আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























