অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শুরু হতে যাওয়া এএফসি নারী এশিয়ান কাপের ২১তম আসরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল তাদের ঐতিহাসিক যাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে। আগামী ৩ মার্চ টুর্নামেন্টের পর্দা উঠলেও, বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের। এরপর গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে তাদের লড়তে হবে উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানের মতো কঠিন দলগুলোর বিরুদ্ধে। এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যা ১৯৮০ সালে পুরুষ জাতীয় দলের অংশগ্রহণের পর দীর্ঘ বিরতির পর প্রথমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছে।
সিডনিতে পৌঁছে বাংলাদেশ দল ইতিমধ্যেই সেখানকার পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বৈচিত্র্যময় এবং অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর বেশ কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে গেলেও, সেখানকার পরিবেশের সাথে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে ফুটবলারদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। দলের ম্যানেজার মাহমুদা আক্তার অনন্যা জানিয়েছেন, “গতকাল (শুক্রবার) রিকভারি সেশন ছিল, যেখানে সুইমিং এবং স্ট্রেচিংয়ের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সতেজ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আজ (গতকাল) ট্রেনিং গ্রাউন্ডে সবাই ভালো পারফর্ম করেছে। আবহাওয়ার ব্যাপারে বলতে হয়, এখানে রোদ-বৃষ্টির খেলা চলছে। তবুও আমরা চেষ্টা করছি এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়েTraining করতে।”
দলটি ইতিমধ্যেই স্থানীয় একটি ক্লাবের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। তবে, ম্যানেজার অনন্যা স্বীকার করেছেন যে, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সাথে এখনো পুরোপুরি মানিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান যে, দলের কোনো বড় ইনজুরি নেই। “দলে তেমন কোনো ইনজুরি নেই। ছোটখাটো যা আছে, তা ফিজিওরা দেখভাল করছেন। দলের সবাই সুস্থ আছে এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।”
বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল মাঠের পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল মাঠের পরিবেশ বেশ চমৎকার। সবকিছুই সুসংগঠিত এবং খেলোয়াড়রাও খুব উপভোগ করছে। তবে, অনুশীলনের জন্য সময়ের অভাব কিছুটা আক্ষেপের কারণ। আজ আমরা দুই ঘণ্টার জন্য মাঠ পেয়েছি, যা যথেষ্ট মনে হচ্ছে না।”
প্রকৃতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এবং নিজেদের সেরাটা দিয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এশিয়ান কাপে ইতিহাস গড়তে বদ্ধপরিকর। এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টে তাদের পথচলা নিঃসন্দেহে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
রিপোর্টারের নাম 

























