ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুলিশের শীর্ষ পদগুলোতে বড় পরিবর্তনের আভাস: পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ও সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ ও র‍্যাবের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পেতে কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত পদায়ন ও পদোন্নতির আশায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী মহলে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত দেড় দশকে যারা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন, রাজনৈতিক তকমা দিয়ে যাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল কিংবা যারা চাকরি হারিয়েছেন, তারা এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অনেকেই নিজেদের পূর্বের নাজেহাল হওয়ার চিত্র সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরছেন। আবার গত ১৫ বছরে চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মকর্তাদের একটি অংশ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে বাহিনীতে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা নিয়মিত প্রভাবশালী নেতাদের বাসভবন ও দপ্তরে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

পুলিশ প্রশাসনে এই রদবদল নিয়ে বর্তমান সরকার কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখেও রয়েছে। দীর্ঘ সময় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব থাকায় দক্ষ ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তা খুঁজে পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতির দাবিদার হলেও বিগত সরকারের আমলে তাদের অতি-উৎসাহী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, শুধুমাত্র পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সফল কর্মকর্তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হবে।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার তরুণ ও উদ্যমী কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা রাখতে চাইছে। ইতোমধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত বেশ কয়েকজন তরুণ কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে মৌখিক সংকেত দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি ও পুলিশ বিশ্লেষক নুরুল হুদা জানান, পদায়ন বা কর্মকর্তাদের ব্যবহারের বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। রাজনৈতিক সরকার তাদের লক্ষ্য অর্জনে কাকে কোথায় যোগ্য মনে করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

অন্যদিকে, অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে হলে যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদায়ন হওয়া জরুরি। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাবে নয় বরং রুটিন কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনীর মনোবলে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করা এবং অপারেশনে গতি ফেরানো এখন প্রধান লক্ষ্য। সূত্র মতে, বিসিএস ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা আলী হোসেন ফকিরকে ইতোমধ্যে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ঈদের আগেই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, র‍্যাব মহাপরিচালক, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), সিআইডি এবং পিবিআই প্রধানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব নিয়োগের ফাইল বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

এছাড়া, যেসব পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বা যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের বিষয়েও কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। বিতর্কিত বা পলাতক কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ কেউ যাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একইসঙ্গে বিদেশে বা দেশের ভেতরে আত্মগোপনে থেকে কেউ যাতে ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সেদিকেও কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের পাল্টা হামলা: পাকিস্তানের সেনা ক্যাম্পে আঘাত

পুলিশের শীর্ষ পদগুলোতে বড় পরিবর্তনের আভাস: পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে

আপডেট সময় : ০৯:০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ও সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ ও র‍্যাবের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পেতে কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত পদায়ন ও পদোন্নতির আশায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী মহলে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত দেড় দশকে যারা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন, রাজনৈতিক তকমা দিয়ে যাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল কিংবা যারা চাকরি হারিয়েছেন, তারা এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অনেকেই নিজেদের পূর্বের নাজেহাল হওয়ার চিত্র সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরছেন। আবার গত ১৫ বছরে চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মকর্তাদের একটি অংশ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে বাহিনীতে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা নিয়মিত প্রভাবশালী নেতাদের বাসভবন ও দপ্তরে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

পুলিশ প্রশাসনে এই রদবদল নিয়ে বর্তমান সরকার কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখেও রয়েছে। দীর্ঘ সময় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব থাকায় দক্ষ ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তা খুঁজে পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতির দাবিদার হলেও বিগত সরকারের আমলে তাদের অতি-উৎসাহী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, শুধুমাত্র পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সফল কর্মকর্তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হবে।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার তরুণ ও উদ্যমী কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা রাখতে চাইছে। ইতোমধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত বেশ কয়েকজন তরুণ কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে মৌখিক সংকেত দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি ও পুলিশ বিশ্লেষক নুরুল হুদা জানান, পদায়ন বা কর্মকর্তাদের ব্যবহারের বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। রাজনৈতিক সরকার তাদের লক্ষ্য অর্জনে কাকে কোথায় যোগ্য মনে করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

অন্যদিকে, অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে হলে যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদায়ন হওয়া জরুরি। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাবে নয় বরং রুটিন কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনীর মনোবলে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করা এবং অপারেশনে গতি ফেরানো এখন প্রধান লক্ষ্য। সূত্র মতে, বিসিএস ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা আলী হোসেন ফকিরকে ইতোমধ্যে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ঈদের আগেই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, র‍্যাব মহাপরিচালক, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), সিআইডি এবং পিবিআই প্রধানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব নিয়োগের ফাইল বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

এছাড়া, যেসব পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বা যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের বিষয়েও কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। বিতর্কিত বা পলাতক কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ কেউ যাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একইসঙ্গে বিদেশে বা দেশের ভেতরে আত্মগোপনে থেকে কেউ যাতে ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সেদিকেও কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।