বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ের মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ যেন থামছেই না। চলমান বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে মাঠের আম্পায়ারদের দক্ষতা নিয়ে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচে আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের ক্ষোভ প্রকাশ এবং টুর্নামেন্ট কমিটির কর্মকর্তাদের অসন্তুষ্টি ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিবেশকে ঘোলাটে করে তুলেছে।
বগুড়ায় অনুষ্ঠিত বিসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ডে পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের মধ্যকার ম্যাচে আম্পায়ারিং নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পূর্বাঞ্চলের পেসার মুশফিক হাসানের বলে আরিফুল ইসলামের আউটের জোরালো আবেদন আম্পায়ার নাকচ করে দিলে মাঠেই ক্ষোভ ফেটে পড়েন ক্রিকেটাররা। একই ম্যাচে ইয়াসির আলী রাব্বির আউট নিয়েও তৈরি হয় চরম বিতর্ক। অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে রংপুর ও গাইবান্ধার ম্যাচে শিহাব জেমসের আউটটি ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর। বল অফ স্ট্যাম্পের বেশ বাইরে দিয়ে গেলেও আম্পায়ার তাকে এলবিডব্লিউ ঘোষণা করেন, যা দূর থেকেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।
আম্পায়ারিংয়ের এমন নিম্নমানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আহসান ইকবাল চৌধুরী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আম্পায়ারদের ভুলের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ক্রিকেটের সার্বিক উন্নতির স্বার্থে আম্পায়ারিংয়ের মানোন্নয়নকে এখন অপরিহার্য মনে করছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুতই আম্পায়ার্স কমিটির সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির ইনচার্জ অভি আব্দুল্লাহ আল নোমান অবশ্য আলোচনার এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তিনি জানান, টুর্নামেন্ট কমিটির যেকোনো পর্যবেক্ষণ শুনতে তারা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
তবে মাঠের এই বিতর্ক নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে বিসিবির একাংশের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু কর্মকর্তার মতে, আম্পায়ারদের ভুলকে ইতিবাচকভাবে দেখার মানসিকতা আমাদের ক্রিকেটারদের মধ্যে নেই। বগুড়ার ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইয়াসির আলী রাব্বি, নাসুম আহমেদ বা পারভেজ হোসেন ইমনের মতো জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন আম্পায়ারদের তুলে আনার প্রক্রিয়ায় কিছু ভুল হওয়া স্বাভাবিক, তবে সেই ভুলের মাত্রা কতটুকু তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আম্পায়াররা বড় কোনো ভুল করলে তাদের শাস্তিস্বরূপ অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা সাধারণত প্রকাশ্যে আনা হয় না। ঘরোয়া ক্রিকেটের মান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখতে আম্পায়ারদের দক্ষতার পাশাপাশি ক্রিকেটারদেরও মাঠের আচরণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রিপোর্টারের নাম 






















