ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সমালোচকদের কড়া জবাব: নেইমারের জোড়া গোলে সান্তোসের প্রথম জয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ভিলা বেলমিরোর সবুজ ঘাসে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হলো। শুধু সান্তোসেই নয়, এই স্বস্তির ঢেউ আছড়ে পড়েছে গোটা ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে। চাতক পাখির মতো যারা প্রিয় তারকার চেনা ছন্দের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য দিনটি ছিল উৎসবের। মাঠের লড়াইয়ে জাদুকরী দ্যুতি ছড়িয়ে নেইমার জুনিয়র উপহার দিলেন জোড়া গোল। তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই ব্রাজিলের শীর্ষ লিগ ‘ক্যাম্পেওনাতো ব্রাসিলেইরো সিরি’এ’-তে ভাস্কো দা গামাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সান্তোস। চলতি লিগে এটিই দলটির প্রথম জয়।

ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন নেইমার। খেলার ২৫ মিনিটে এক দর্শনীয় ফিনিশিংয়ে সান্তোসকে লিড এনে দেন তিনি। গোল করার পর গ্যালারির দর্শকদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ‘চুপ’ থাকার ইশারা করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, যা ছিল তার সমালোচকদের প্রতি এক নীরব বার্তা। এরপর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ঢঙে নেচে গোল উদযাপন করেন তিনি। উল্লেখ্য, বর্ণবাদের শিকার হওয়া ভিনিসিয়াসকে সমর্থন জানাতেই নেইমারের এই বিশেষ উদযাপন। যদিও ৪৩ মিনিটে ভাস্কো দা গামা গোল শোধ করে সমতায় ফেরে, তবে ৬১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন নেইমার।

সাম্প্রতিক সময়ে নেইমারের ফর্ম এবং জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনা চলছিল। এমনকি ব্রাজিলের আসন্ন ম্যাচগুলোতে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে দলে রাখবেন কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল সংশয়। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সেই সব নেতিবাচক আলোচনার মোক্ষম জবাব দিলেন এই মেগাস্টার।

ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ ও স্বস্তি প্রকাশ করে নেইমার বলেন, “গত সপ্তাহেও অনেকে বলছিলেন আমি নাকি বিশ্বের সবচেয়ে বাজে খেলোয়াড়। আজ আমি জোড়া গোল করেছি। ফুটবলে এমনই হয়—একদিনে আপনি অযোগ্য হয়ে পড়েন, আবার পরদিনই মানুষ আপনাকে বিশ্বকাপে দেখার দাবি তোলে।”

নিজের শারীরিক অবস্থা ও ফর্ম নিয়ে নেইমার আরও যোগ করেন, “আমি সেরা ছন্দে ফিরতে কঠোর পরিশ্রম করছি। এ বছর এটি ছিল আমার মাত্র তৃতীয় ম্যাচ এবং দ্বিতীয়বারের মতো পুরো ৯০ মিনিট খেলেছি। শেষের দিকে পেশিতে কিছুটা টান অনুভূত হলেও এটি আমার ফেরার প্রক্রিয়ারই অংশ।”

ভিনিসিয়াসের স্টাইলে উদযাপনের বিষয়ে তিনি জানান, পর্তুগালে বর্ণবাদের শিকার হওয়ার পর তিনি ভিনিকে কথা দিয়েছিলেন যে, পরবর্তী গোলটি তিনি ভিনির মতোই উদযাপন করবেন। এই জয়ের মাধ্যমে নেইমার কেবল সান্তোসকে পূর্ণ পয়েন্টই এনে দেননি, বরং বিশ্ব ফুটবলকে আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন যে কেন তিনি অনন্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

সমালোচকদের কড়া জবাব: নেইমারের জোড়া গোলে সান্তোসের প্রথম জয়

আপডেট সময় : ১০:২০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভিলা বেলমিরোর সবুজ ঘাসে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হলো। শুধু সান্তোসেই নয়, এই স্বস্তির ঢেউ আছড়ে পড়েছে গোটা ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে। চাতক পাখির মতো যারা প্রিয় তারকার চেনা ছন্দের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য দিনটি ছিল উৎসবের। মাঠের লড়াইয়ে জাদুকরী দ্যুতি ছড়িয়ে নেইমার জুনিয়র উপহার দিলেন জোড়া গোল। তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই ব্রাজিলের শীর্ষ লিগ ‘ক্যাম্পেওনাতো ব্রাসিলেইরো সিরি’এ’-তে ভাস্কো দা গামাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সান্তোস। চলতি লিগে এটিই দলটির প্রথম জয়।

ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন নেইমার। খেলার ২৫ মিনিটে এক দর্শনীয় ফিনিশিংয়ে সান্তোসকে লিড এনে দেন তিনি। গোল করার পর গ্যালারির দর্শকদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ‘চুপ’ থাকার ইশারা করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, যা ছিল তার সমালোচকদের প্রতি এক নীরব বার্তা। এরপর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ঢঙে নেচে গোল উদযাপন করেন তিনি। উল্লেখ্য, বর্ণবাদের শিকার হওয়া ভিনিসিয়াসকে সমর্থন জানাতেই নেইমারের এই বিশেষ উদযাপন। যদিও ৪৩ মিনিটে ভাস্কো দা গামা গোল শোধ করে সমতায় ফেরে, তবে ৬১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন নেইমার।

সাম্প্রতিক সময়ে নেইমারের ফর্ম এবং জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনা চলছিল। এমনকি ব্রাজিলের আসন্ন ম্যাচগুলোতে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে দলে রাখবেন কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল সংশয়। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সেই সব নেতিবাচক আলোচনার মোক্ষম জবাব দিলেন এই মেগাস্টার।

ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ ও স্বস্তি প্রকাশ করে নেইমার বলেন, “গত সপ্তাহেও অনেকে বলছিলেন আমি নাকি বিশ্বের সবচেয়ে বাজে খেলোয়াড়। আজ আমি জোড়া গোল করেছি। ফুটবলে এমনই হয়—একদিনে আপনি অযোগ্য হয়ে পড়েন, আবার পরদিনই মানুষ আপনাকে বিশ্বকাপে দেখার দাবি তোলে।”

নিজের শারীরিক অবস্থা ও ফর্ম নিয়ে নেইমার আরও যোগ করেন, “আমি সেরা ছন্দে ফিরতে কঠোর পরিশ্রম করছি। এ বছর এটি ছিল আমার মাত্র তৃতীয় ম্যাচ এবং দ্বিতীয়বারের মতো পুরো ৯০ মিনিট খেলেছি। শেষের দিকে পেশিতে কিছুটা টান অনুভূত হলেও এটি আমার ফেরার প্রক্রিয়ারই অংশ।”

ভিনিসিয়াসের স্টাইলে উদযাপনের বিষয়ে তিনি জানান, পর্তুগালে বর্ণবাদের শিকার হওয়ার পর তিনি ভিনিকে কথা দিয়েছিলেন যে, পরবর্তী গোলটি তিনি ভিনির মতোই উদযাপন করবেন। এই জয়ের মাধ্যমে নেইমার কেবল সান্তোসকে পূর্ণ পয়েন্টই এনে দেননি, বরং বিশ্ব ফুটবলকে আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন যে কেন তিনি অনন্য।