ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাপমুক্তির মহিমান্বিত সুযোগ: রমজানের জুমার তাৎপর্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত নানা ভুল ও গুনাহে লিপ্ত হই। ইসলামের দৃষ্টিতে নবী-রাসুলগণ ব্যতীত কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তবে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা বান্দার এই দুর্বলতাকে যেমন জানেন, তেমনি তাদের ক্ষমা করার জন্য রেখেছেন অবারিত সুযোগ। পাপাচার থেকে মুক্ত হয়ে পরিশুদ্ধ জীবন গঠনের জন্য তিনি দৈনিক, সাপ্তাহিক ও বাৎসরিক ভিত্তিতে ক্ষমার বিশেষ কিছু মুহূর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

ইসলামী জীবনদর্শনে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। আর সেই জুমা যদি হয় পবিত্র রমজান মাসে, তবে তার গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বহুগুণ বেড়ে যায়। হাদিস শরিফে এই ধারাবাহিক ক্ষমার একটি চমৎকার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান—এর মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত সব গুনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেন; যদি বান্দা কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ থেকে বেঁচে থাকে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৩৩)

পবিত্র রমজান মাস এমনিতেই মাগফিরাত বা ক্ষমার বিশেষ মৌসুম। এই মাসে জুমার দিনগুলো মুমিনের জন্য যেন ‘বোনাস’ হিসেবে আবির্ভূত হয়। রমজানের একটি জুমায় উপস্থিত হওয়া মানে ক্ষমার তিনটি স্তরের সমন্বয় ঘটা। অর্থাৎ, একজন মুমিন যদি যথাযথভাবে রমজানের জুমা আদায় করেন, তবে তিনি একইসঙ্গে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, সাপ্তাহিক জুমা এবং বাৎসরিক রমজানের বিশেষ রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় পান।

দুর্ভাগ্যবশত বছরের অন্যান্য সময়ে আমরা অনেকে ইবাদতে মগ্ন হতে না পারলেও, রমজানের এই বিশেষ মুহূর্তগুলো হাতছাড়া করা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। সারা বছর পরম দয়াময় আল্লাহর ক্ষমার দুয়ার খোলা থাকলেও রমজানের জুমার দিনগুলো পাপরাশি ধুয়ে-মুছে ফেলার শ্রেষ্ঠ সময়। তাই এই মহিমান্বিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং নিজেদের গুনাহমুক্ত করার সংকল্প গ্রহণ করা প্রতিটি মুসলিমের একান্ত কর্তব্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চোর আটক ঘিরে রণক্ষেত্র রায়পুর: পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে আহত ২০, সড়ক অবরোধে ভোগান্তি

পাপমুক্তির মহিমান্বিত সুযোগ: রমজানের জুমার তাৎপর্য

আপডেট সময় : ০৯:১৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত নানা ভুল ও গুনাহে লিপ্ত হই। ইসলামের দৃষ্টিতে নবী-রাসুলগণ ব্যতীত কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তবে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা বান্দার এই দুর্বলতাকে যেমন জানেন, তেমনি তাদের ক্ষমা করার জন্য রেখেছেন অবারিত সুযোগ। পাপাচার থেকে মুক্ত হয়ে পরিশুদ্ধ জীবন গঠনের জন্য তিনি দৈনিক, সাপ্তাহিক ও বাৎসরিক ভিত্তিতে ক্ষমার বিশেষ কিছু মুহূর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

ইসলামী জীবনদর্শনে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। আর সেই জুমা যদি হয় পবিত্র রমজান মাসে, তবে তার গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বহুগুণ বেড়ে যায়। হাদিস শরিফে এই ধারাবাহিক ক্ষমার একটি চমৎকার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান—এর মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত সব গুনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেন; যদি বান্দা কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ থেকে বেঁচে থাকে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৩৩)

পবিত্র রমজান মাস এমনিতেই মাগফিরাত বা ক্ষমার বিশেষ মৌসুম। এই মাসে জুমার দিনগুলো মুমিনের জন্য যেন ‘বোনাস’ হিসেবে আবির্ভূত হয়। রমজানের একটি জুমায় উপস্থিত হওয়া মানে ক্ষমার তিনটি স্তরের সমন্বয় ঘটা। অর্থাৎ, একজন মুমিন যদি যথাযথভাবে রমজানের জুমা আদায় করেন, তবে তিনি একইসঙ্গে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, সাপ্তাহিক জুমা এবং বাৎসরিক রমজানের বিশেষ রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় পান।

দুর্ভাগ্যবশত বছরের অন্যান্য সময়ে আমরা অনেকে ইবাদতে মগ্ন হতে না পারলেও, রমজানের এই বিশেষ মুহূর্তগুলো হাতছাড়া করা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। সারা বছর পরম দয়াময় আল্লাহর ক্ষমার দুয়ার খোলা থাকলেও রমজানের জুমার দিনগুলো পাপরাশি ধুয়ে-মুছে ফেলার শ্রেষ্ঠ সময়। তাই এই মহিমান্বিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং নিজেদের গুনাহমুক্ত করার সংকল্প গ্রহণ করা প্রতিটি মুসলিমের একান্ত কর্তব্য।