সুপার এইটে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য রূপ ধরে রেখে গ্রুপ-১ থেকে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রোটিয়ারা তুলে নিয়েছে টানা দ্বিতীয় দাপুটে জয়। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ১৭৭ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৬.১ ওভারেই টপকে যায় এইডেন মার্করামের দল, হাতে ছিল ৯ উইকেট।
১৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও এইডেন মার্করামের ব্যাট থেকে আসে ৯৮ রানের বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটি। মাত্র অষ্টম ওভারেই ৪৭ রান করে ডি কক (২৪ বলে ৪ চার ও ৪ ছক্কা) যখন প্যাভিলিয়নে ফেরেন, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় ম্যাচের গতিপথ। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রায়ান রিকেলটনকে নিয়ে আরও ৫০ বলে ৮২ রান যোগ করেন অধিনায়ক মার্করাম। নিজে ৪৬ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৮২ রানের এক ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন, যা তার ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি। ২৮ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন রিকেলটনও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে একমাত্র উইকেটটি নেন রোস্টন চেজ।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এক পর্যায়ে ৬০ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে ক্যারিবীয়রা। টপ অর্ডারের কোনো ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে রান করতে পারেননি, কেবল ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ২১ ও শাই হোপ ১৬ রান করেন। তবে সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জেসন হোল্ডার। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৩১ বলে খেলেন ৪৯ রানের ঝড়ো ইনিংস। ম্যাথু ফোর্ডের (৯ বলে ১১) বিদায়ের পর অষ্টম উইকেট জুটিতে রোমারিও শেফার্ডকে নিয়ে ৮৯ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন হোল্ডার। ৫৭ বলে গড়া এই জুটিতে হোল্ডার ২১ বলে ৩৯ রান যোগ করেন। শেফার্ডও কম যাননি, ৩৭ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় খেলেন ৫১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তাদের কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৭৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। প্রোটিয়াদের হয়ে লুঙ্গি এনগিদি ৩০ রান খরচায় তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
টানা দুই দাপুটে জয়ে পূর্ণ ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-১ থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি রানরেটেও অনেকটাই এগিয়ে রইল দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম।
রিপোর্টারের নাম 























