দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে গুটিকয়েক বড় ঋণগ্রহীতা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৫,৭৭৫ জন গ্রাহকের কাছে বর্তমানে ৩ লাখ ৪ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, তালিকায় শীর্ষ ঋণ খেলাপির বড় অংশই চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী।
বিভাগ অনুযায়ী খেলাপি ঋণের বণ্টন: প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঋণের অংক যত বড়, খেলাপি হওয়ার হারও তত বেশি।
- ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণ: এই তালিকায় রয়েছেন মাত্র ২,২৭৩ জন বড় গ্রাহক। অথচ তাঁদের কাছে থাকা খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা। এই শ্রেণীর গ্রাহকদের গড় খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৫ কোটি টাকা।
- ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকা: ৫,৭৭৫ জন গ্রাহকের মধ্যে বাকি অংশটি ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের। ২০-৩০ কোটি ক্যাটাগরিতে ১,৭৪০ গ্রাহকের কাছে ৪৩,০৫১ কোটি টাকা এবং ৪০-৫০ কোটি ক্যাটাগরিতে ৭১৮ গ্রাহকের কাছে ৩২,৫২৬ কোটি টাকা খেলাপি রয়েছে।
- ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহক (১ কোটি টাকার নিচে): এই শ্রেণীতে গ্রাহক সংখ্যা বিশাল—৪৪ লাখ ২৮ হাজার ১৩৬ জন। কিন্তু তাঁদের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ মাত্র ৬১,৬৫১ কোটি টাকা। এই ছোট গ্রাহকদের গড় খেলাপি ঋণ মাত্র ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
এক বছরে খেলাপি ঋণ দ্বিগুণ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ এই চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গত এক বছরে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এর বড় একটি অংশ জুড়েই রয়েছে তৈরি পোশাক (১৪.০৪%) এবং বস্ত্র খাত (১০.৫৪%)।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করার সংস্কৃতি এবং তদারকির অভাবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বড় অংকের এই টাকা আটকা পড়ায় ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট ও প্রভিশন ঘাটতি আরও প্রকট হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























