ফুটবল বিশ্বের সম্ভাব্য সব অর্জনই এখন লিওনেল মেসির হাতের মুঠোয়। রেকর্ড আটবার ব্যালন ডি’অর জয়, ক্লাব ফুটবলের অসংখ্য শিরোপা আর সবশেষে কাতার বিশ্বকাপে সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ক্যারিয়ারের পূর্ণতা পেয়েছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সাফল্যের চূড়ায় থাকা এই ফুটবল জাদুকরের জীবনে পাওয়ার আর তেমন কিছুই বাকি নেই। তবুও রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে একটি জায়গায় তীব্র অনুশোচনা বোধ করেন মেসি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, শৈশবে পড়াশোনায় মনোযোগী না হওয়া এবং ইংরেজি ভাষা না শেখাটা তাকে আজও ভীষণভাবে পোড়ায়।
আর্জেন্টিনার সাবেক গোলরক্ষক নাহুয়েল গুজম্যানের মেক্সিকান পডকাস্ট ‘মিরো দে আত্রাস’-এ আলাপকালে নিজের এই ব্যক্তিগত আক্ষেপের কথা অকপটে স্বীকার করেন ইন্টার মায়ামির এই তারকা। মেসি জানান, ছোটবেলায় তার হাতে পড়াশোনা করার যথেষ্ট সুযোগ ও সময় ছিল, কিন্তু ফুটবলের প্রতি অদম্য আকর্ষণের কারণে শিক্ষার টেবিলকে তিনি গুরুত্ব দেননি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ইংরেজি ভাষা রপ্ত না করতে পারাটা তাকে এখন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়।
নিজের এই আক্ষেপের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে মেসি বলেন, “জীবনের অনেক বিষয়েই আমার আফসোস রয়েছে। আমি এখন সন্তানদের বলি, শৈশবে ভালো শিক্ষা না নেওয়া বা ইংরেজি না শেখার জন্য আমি কতটা অনুশোচনা করি। আমার কাছে পর্যাপ্ত সময় ছিল, কিন্তু আমি তা হেলায় হারিয়েছি।”
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রভাবশালী ও নামিদামি ব্যক্তিদের সাথে চলাফেরা করতে গিয়ে প্রায়ই ভাষাগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় মেসিকে। সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “এমন অনেক সময় আসে যখন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করতে হয়, তখন নিজেকে খুব অসহায় ও অজ্ঞ মনে হয়। নিজের ওপর তখন রাগ হয়, মনে হয় আমি কতটা সময় নষ্ট করেছি!”
নিজের জীবনের এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে সচেতন মেসি। থিয়াগো, মাতেও এবং চিরোকে তিনি সবসময় পরামর্শ দেন যেন তারা শিক্ষার প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগায়। মেসির মতে, তার বাবা তাকে সবটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বর্তমান সময়ে তার সন্তানদের সামনে সুযোগ আরও অবারিত। তাই তারা যেন কোনোভাবেই পড়াশোনায় ফাঁকি না দেয়, সেদিকেই কড়া নজর এই ফুটবল মহাতারকার।
একই সাক্ষাৎকারে ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়েও কথা বলেন এলএমটেন। পরবর্তী বিশ্বকাপে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলার সম্ভাবনা থাকলেও প্রতিপক্ষ হিসেবে মেক্সিকোকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। মেসি বলেন, বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচগুলো সবসময়ই স্নায়ুচাপের ও ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই হয়ে দাঁড়ায়। তাই আসন্ন বিশ্বমঞ্চে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের মুখোমুখি হতে চান না এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
রিপোর্টারের নাম 

























