ময়মনসিংহের ভালুকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার দীপু চন্দ্র দাসের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার সম্প্রতি দীপু দাসের বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে নিহতের পরিবারের জন্য আবাসন ও বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া নগদ আর্থিক সহায়তা হিসেবে দীপু দাসের বাবা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা প্রদান করবে সরকার। পাশাপাশি তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ৫ লাখ টাকার একটি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করে দেওয়া হবে।
এই সহায়তা প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার বলেন, দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি বর্বরোচিত অপরাধ, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে এভাবে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা পুরো জাতির জন্য চরম লজ্জার। কেবল দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচারই আমাদের এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিতে পারে।”
উপদেষ্টা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজে প্রতিটি মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে, তবে তা অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় একটি কারখানায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঘাতকরা তাঁর মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই দিন রাত আড়াইটার দিকে নিহতের অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। সংশ্লিষ্ট পরিবারকে সহায়তার এই উদ্যোগ একটি জীবনের ক্ষতির তুলনায় সামান্য হলেও, রাষ্ট্র এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও সামাজিক সংহতির বার্তা দিতে চাইছে।
রিপোর্টারের নাম 
























