সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। বিশেষ করে বালুবাহী বাল্কহেডগুলোর বেপরোয়া চলাচলের কারণে উপজেলার জোতপাড়া এলাকায় নদী তীররক্ষা বাঁধটি এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাঁধটি রক্ষা করতে এবং বাল্কহেড চলাচল বন্ধের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দফায় দফায় বিক্ষোভ করে তারা যমুনার এই অংশে বালু পরিবহন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনার পূর্ব তীর দিয়ে প্রতিনিয়ত বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলের ফলে সৃষ্ট ঢেউয়ে পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে নদী তীরবর্তী প্রায় পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুধু বসতভিটাই নয়, ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এবং স্থানীয় হাটবাজার। ভৌগোলিক কারণে সিরাজগঞ্জ জেলা সদর থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম এই জনপদটি বারবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এমনিতেই বিপর্যস্ত, তার ওপর বাল্কহেডের কৃত্রিম ঢেউ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রেহাইপুকুরিয়া পশ্চিমপাড়া থেকে ভূতের মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছিল। কিন্তু বাল্কহেডগুলো তীরের একেবারে কাছ দিয়ে যাতায়াত করায় পানির প্রবল চাপে জিও ব্যাগগুলো ধসে যাচ্ছে। ফলে বাঘুটিয়া ও খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম এখন নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে বাল্কহেড চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে এই এলাকায় একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার জানান, গত কয়েকদিন ধরে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বালুমহালের শত শত বাল্কহেড নিয়ম না মেনে চলায় তীরের মাটি আলগা হয়ে ধসে পড়ছে। তাদের চোখের সামনেই সাজানো সংসার ও জমি নদী কেড়ে নিচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান জানান, বাল্কহেড চলাচল বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা একত্রিত হয়েছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে নাব্য সংকটের কারণে বর্তমানে কয়েকটি বাল্কহেড সেখানে আটকে আছে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর নতুন করে আর কোনো বাল্কহেড চলতে দেওয়া হবে না।
এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাসিবুর রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে নদী তীরের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাল্কহেড চলাচল বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























