ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: রাষ্ট্রপতির ভাষণে থাকছে হাসিনার ‘দুঃশাসন’ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চিত্র

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম দিনেই ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে এবারের ভাষণে থাকছে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে উঠে আসবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রাষ্ট্রপতির ভাষণে এবার প্রাধান্য পাচ্ছে ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নের চিত্র। এছাড়া বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বিষয়গুলোও এই ভাষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতোমধ্যে ভাষণের খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ সম্পন্ন করেছে।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন এবং পরবর্তীতে তার ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সংসদ সদস্যরা ওই প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে তা গ্রহণ করেন। যদিও রাষ্ট্রপতি এই ভাষণ পাঠ করেন, তবে এর খসড়া তৈরি করে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তৈরি করা এই খসড়াটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পাঠ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই এই ভাষণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। প্রায় দেড়শ পৃষ্ঠার এই বিশদ ভাষণে বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন (দশম, একাদশ ও দ্বাদশ) এবং সে সময়কার অগণতান্ত্রিক শাসনের কঠোর সমালোচনা থাকছে। এছাড়া বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, গুম, খুন এবং ‘আয়নাঘর’-এর মাধ্যমে পরিচালিত নির্যাতনের খতিয়ানও ভাষণে স্থান পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পলায়ন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটও এখানে বর্ণিত হবে।

উল্লেখ্য, ১২ মার্চের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি তার দীর্ঘ ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সংসদে পড়ে শোনাবেন এবং বাকি অংশটি পঠিত বলে গণ্য হবে। ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিসংখ্যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণটি হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। সেই সময় তিনি বিতর্কিত দ্বাদশ নির্বাচনকে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার একই রাষ্ট্রপতির মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও অপশাসনের বর্ণনা শোনা যাবে।

অধিবেশনের প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তারা নিশ্চিত করেছেন যে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই এই ভাষণটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রস্তুত করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিউবার জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের স্পিডবোটে অভিযান: গুলিবিনিময়ে ৪ জন নিহত

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: রাষ্ট্রপতির ভাষণে থাকছে হাসিনার ‘দুঃশাসন’ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চিত্র

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম দিনেই ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে এবারের ভাষণে থাকছে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে উঠে আসবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রাষ্ট্রপতির ভাষণে এবার প্রাধান্য পাচ্ছে ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নের চিত্র। এছাড়া বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বিষয়গুলোও এই ভাষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতোমধ্যে ভাষণের খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ সম্পন্ন করেছে।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন এবং পরবর্তীতে তার ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সংসদ সদস্যরা ওই প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে তা গ্রহণ করেন। যদিও রাষ্ট্রপতি এই ভাষণ পাঠ করেন, তবে এর খসড়া তৈরি করে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তৈরি করা এই খসড়াটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পাঠ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই এই ভাষণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। প্রায় দেড়শ পৃষ্ঠার এই বিশদ ভাষণে বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন (দশম, একাদশ ও দ্বাদশ) এবং সে সময়কার অগণতান্ত্রিক শাসনের কঠোর সমালোচনা থাকছে। এছাড়া বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, গুম, খুন এবং ‘আয়নাঘর’-এর মাধ্যমে পরিচালিত নির্যাতনের খতিয়ানও ভাষণে স্থান পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পলায়ন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটও এখানে বর্ণিত হবে।

উল্লেখ্য, ১২ মার্চের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি তার দীর্ঘ ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সংসদে পড়ে শোনাবেন এবং বাকি অংশটি পঠিত বলে গণ্য হবে। ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিসংখ্যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণটি হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। সেই সময় তিনি বিতর্কিত দ্বাদশ নির্বাচনকে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার একই রাষ্ট্রপতির মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও অপশাসনের বর্ণনা শোনা যাবে।

অধিবেশনের প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তারা নিশ্চিত করেছেন যে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই এই ভাষণটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রস্তুত করা হয়েছে।