ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সেনানিবাস সংলগ্ন আমতলী এলাকায় সড়ক সংস্কার কাজে চরম ধীরগতির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে যান চলাচল। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে সামনেই ঈদুল ফিতর; এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে মহাসড়কটিতে চলাচলের ক্ষেত্রে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের আমতলী অংশের মাত্র ১ হাজার ৩৬৫ মিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় ১৭ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। ‘হক এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের কাজ পায়। তবে তিন দফায় সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তাদের খেয়ালখুশিমতো কাজ বন্ধ ও চালু রাখে, যার ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি নেই বললেই চলে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের এই অংশে বড় বড় খানাখন্দের কারণে যানবাহনগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে। সকালের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপ বাড়ে। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজট স্থায়ী রূপ নেয়। কুমিল্লার আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি দিয়ে চান্দিনা, হোমনা, তিতাস, দাউদকান্দি, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার মানুষ যাতায়াত করেন। সংস্কারকাজের দীর্ঘসূত্রতায় গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষের এখন অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন চালকদের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। লুৎফুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশপথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর। অন্যদিকে, আমতলী এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজের নামে টালবাহানা করছে। মাসের পর মাস পার হলেও তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কুমিল্লার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ সামলে কাজ করতে গিয়ে কৌশলগত কারণে কিছু বিলম্ব হচ্ছে। তারা বিভিন্ন অংশে ভাগ করে কাজগুলো এগিয়ে নিচ্ছেন।
সওজ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, মহাসড়কে গাড়ির তীব্র চাপের কারণে কাজে সময় বেশি লাগছে। তবে ঈদুল ফিতরের আগেই যেন কাজ শেষ হয়, সে বিষয়ে ঠিকাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার শাহীনুর আলম দ্রুত কাজ শেষ করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এই সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে।
রিপোর্টারের নাম 























