কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সচিত্র প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় চিহ্নিত বালু ও পাহাড় খেকো সন্ত্রাসী নাজিম উদ্দিনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আহত সাংবাদিক এ কে এম ইকবাল ফারুক বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় এই মামলাটি রুজু করেন। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাং ইছাছড়ি এলাকায় ফসলি জমি ও ছড়াখাল থেকে সেলো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এই দৃশ্য ধারণ করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী বালু খেকো নাজিম উদ্দিন ও তার সশস্ত্র বাহিনী সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা তিন সাংবাদিককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। হামলায় সাংবাদিক এম জিয়াবুল হকের ডান হাত ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় এবং সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথ ও ইকবাল ফারুক শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
হামলার পর সন্ত্রাসীরা আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে বাধা দেয় এবং নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আহত সাংবাদিকরা বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় চকরিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজ। গত মঙ্গলবার বিকেলে চকরিয়া পৌর শহরের প্রধান সড়কে শত শত গণমাধ্যমকর্মীর অংশগ্রহণে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রাপ্ত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























