ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান: আজ পর্দা উঠছে অমর একুশে বইমেলার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সব জল্পনা-কল্পনা, বিতর্ক ও সময়সূচির একাধিক পরিবর্তনের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’। ভাষার মাসের আবেগ আর ঐতিহ্যের এই মিলনমেলা ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ। আজ বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাসব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এবারের বইমেলা আয়োজনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে আয়োজক কমিটিকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের কারণে মেলার সময়সূচি নিয়ে কয়েক দফা পরিবর্তন আনা হয়। শুরুতে ডিসেম্বর ও পরে ফেব্রুয়ারি মাসের বিভিন্ন তারিখ নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে ১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু করা সম্ভব না হলেও, বইপ্রেমীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি চত্বরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পাঠকদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য ইট বিছানো প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। প্রকাশকরাও তাদের স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোকে নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তুলেছেন। কেউ বইয়ের প্রচ্ছদের থিমে, আবার কেউ আধুনিক আলোকসজ্জায় ফুটিয়ে তুলেছেন নিজেদের সৃজনশীলতা।

এ বছর মেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১০১৮টি ইউনিট এবং ৮৭টি লিটলম্যাগ স্টল থাকছে। শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ‘শিশুচত্বর’, যেখানে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের ১০৭টি ইউনিট রয়েছে।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মেলায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ বিশেষ ব্যবস্থা। মুসল্লিদের জন্য নামাজের জায়গা, ওজু ও শৌচাগারের পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে ইফতারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেলা প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। তবে ছুটির দিনগুলোতে মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায়। প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কোনো দর্শনার্থী মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।

রমজান মাসে মেলা আয়োজন নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ মনে করছেন, সংযম ও জ্ঞানচর্চার মাসে বইমেলা এক ভিন্ন তাৎপর্য বহন করবে। অন্যদিকে কিছু প্রকাশক রমজানের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে আয়োজকদের প্রত্যাশা, সব ছাপিয়ে বইমেলা তার নিজস্ব জৌলুসে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। এছাড়া ডিবি, সিটিটিসি ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মতো বিশেষায়িত দলগুলো যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো বই বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

যানজট নিরসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের চাপ বুঝে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নির্দিষ্ট পার্কিং জোনের বাইরে গাড়ি রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া পুরো মেলা প্রাঙ্গণকে ধূমপান ও পলিথিনমুক্ত রাখার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের তাণ্ডব: গুলিতে প্রাণ হারালেন কুতুবদিয়ার এক জেলে

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান: আজ পর্দা উঠছে অমর একুশে বইমেলার

আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সব জল্পনা-কল্পনা, বিতর্ক ও সময়সূচির একাধিক পরিবর্তনের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’। ভাষার মাসের আবেগ আর ঐতিহ্যের এই মিলনমেলা ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ। আজ বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাসব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এবারের বইমেলা আয়োজনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে আয়োজক কমিটিকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের কারণে মেলার সময়সূচি নিয়ে কয়েক দফা পরিবর্তন আনা হয়। শুরুতে ডিসেম্বর ও পরে ফেব্রুয়ারি মাসের বিভিন্ন তারিখ নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে ১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু করা সম্ভব না হলেও, বইপ্রেমীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি চত্বরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পাঠকদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য ইট বিছানো প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। প্রকাশকরাও তাদের স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোকে নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তুলেছেন। কেউ বইয়ের প্রচ্ছদের থিমে, আবার কেউ আধুনিক আলোকসজ্জায় ফুটিয়ে তুলেছেন নিজেদের সৃজনশীলতা।

এ বছর মেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১০১৮টি ইউনিট এবং ৮৭টি লিটলম্যাগ স্টল থাকছে। শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ‘শিশুচত্বর’, যেখানে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের ১০৭টি ইউনিট রয়েছে।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মেলায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ বিশেষ ব্যবস্থা। মুসল্লিদের জন্য নামাজের জায়গা, ওজু ও শৌচাগারের পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে ইফতারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেলা প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। তবে ছুটির দিনগুলোতে মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায়। প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কোনো দর্শনার্থী মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।

রমজান মাসে মেলা আয়োজন নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ মনে করছেন, সংযম ও জ্ঞানচর্চার মাসে বইমেলা এক ভিন্ন তাৎপর্য বহন করবে। অন্যদিকে কিছু প্রকাশক রমজানের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে আয়োজকদের প্রত্যাশা, সব ছাপিয়ে বইমেলা তার নিজস্ব জৌলুসে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। এছাড়া ডিবি, সিটিটিসি ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মতো বিশেষায়িত দলগুলো যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো বই বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

যানজট নিরসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের চাপ বুঝে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নির্দিষ্ট পার্কিং জোনের বাইরে গাড়ি রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া পুরো মেলা প্রাঙ্গণকে ধূমপান ও পলিথিনমুক্ত রাখার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।