দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি বৃহৎ সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর ঐক্যের চেয়ে বিভাজনই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলেও, নেতৃত্ব এবং আদর্শিক দ্বন্দ্বে সেই সংহতি এখন নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিভাজন দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় লক্ষ্য অর্জন এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমাজের একটি বিশাল অংশ বিশেষ কোনো লক্ষ্য বা সংস্কারের প্রশ্নে একমত। ছাত্র, জনতা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মধ্যে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা দলীয় বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের বলয়ে বন্দি হয়ে পড়ছে। মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অভূতপূর্ব ঐক্য দেখা গিয়েছিল, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং কৌশলগত অবস্থান এবং আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে পারস্পরিক দূরত্ব আরও বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও যখন বিভাজন প্রবল হয়, তখন তৃতীয় কোনো পক্ষ বা সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী তার ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মহলে সংস্কারের যে দাবি উঠেছে, তা বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। আদর্শিক ভিন্নতা ছাড়িয়ে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ন্যূনতম সাধারণ কর্মসূচিতে একমত হতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। ফলে জনমনে বিভ্রান্তি বাড়ছে এবং পরিবর্তনের গতি মন্থর হয়ে পড়ছে।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিভাজনের মূলে রয়েছে আস্থার সংকট এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। যখনই কোনো বড় অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই নেতৃত্বের লড়াই বা কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা সামনে চলে আসে। এতে করে বিশাল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত সফলতা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি এই বিভাজন দূর করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ঐক্যবদ্ধ রূপরেখা তৈরি করা না যায়, তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
পরিশেষে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও টেকসই সংস্কারের জন্য এই বিশাল সামাজিক ভিত্তিকে একটি সুসংগঠিত শক্তিতে রূপান্তর করা জরুরি। বিভাজন ভুলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণই এখন সময়ের প্রধান দাবি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ থেকে যাবে, বাস্তবে তার সুফল মিলবে না।
রিপোর্টারের নাম 





















