ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শেখাতে যৌথ উদ্যোগ: দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং ভাষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে আগামীতে দেশের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা এবং যুব প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে কার্যরত প্রায় এক হাজার চীনা কোম্পানিতে কর্মসংস্থান এবং বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ। চলতি বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা পৌঁছাবে। প্রতি স্কুলে দুটি করে শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ৯টি ব্রডকাস্টিং সেন্টার স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাবগুলোতে আধুনিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একটি পাইলট প্রকল্প ইতোমধ্যে চালু আছে।

বৈঠকে কারিগরি ও পলিটেকনিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো পরিদর্শন করে কারিকুলাম আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবে। শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী কোর্স ও প্রশিক্ষণ কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া ও লাওসের মতো বিভিন্ন দেশে তারা চীনা ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা প্রসারে সফলভাবে কাজ করছে। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য একটি আধুনিক হল নির্মাণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা চীনা পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।

বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে চীনে স্টাডি ট্যুরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে তারা সরেজমিনে কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শন করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। একইসাথে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে সুপারিশ প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং চীনা পক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা ও চাহিদাপত্র প্রদান করবে বলে জানানো হয়।

শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের শিক্ষা ও প্রযুক্তি সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং দেশের যুবসমাজ আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংক্রান্ত রূপরেখার আলোকেই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে পথযাত্রা শুরু করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শেখাতে যৌথ উদ্যোগ: দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং ভাষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে আগামীতে দেশের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা এবং যুব প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে কার্যরত প্রায় এক হাজার চীনা কোম্পানিতে কর্মসংস্থান এবং বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ। চলতি বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা পৌঁছাবে। প্রতি স্কুলে দুটি করে শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ৯টি ব্রডকাস্টিং সেন্টার স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাবগুলোতে আধুনিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একটি পাইলট প্রকল্প ইতোমধ্যে চালু আছে।

বৈঠকে কারিগরি ও পলিটেকনিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো পরিদর্শন করে কারিকুলাম আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবে। শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী কোর্স ও প্রশিক্ষণ কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া ও লাওসের মতো বিভিন্ন দেশে তারা চীনা ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা প্রসারে সফলভাবে কাজ করছে। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য একটি আধুনিক হল নির্মাণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা চীনা পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।

বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে চীনে স্টাডি ট্যুরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে তারা সরেজমিনে কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শন করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। একইসাথে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে সুপারিশ প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং চীনা পক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা ও চাহিদাপত্র প্রদান করবে বলে জানানো হয়।

শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের শিক্ষা ও প্রযুক্তি সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং দেশের যুবসমাজ আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের শিক্ষা সংক্রান্ত রূপরেখার আলোকেই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে পথযাত্রা শুরু করবে।