ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ষষ্ঠ তারাবি: শয়তান উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার পথ দেখায়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

## ষষ্ঠ তারাবিতে শয়তানের প্ররোচনা ও আত্মরক্ষার নির্দেশনা

ঢাকা: আজ পবিত্র রমজানের ষষ্ঠ তারাবিতে সূরা আরাফ (১২-২০৬) এবং সূরা আনফালের (১-৪০) আয়াত পাঠ করা হবে। এর মাধ্যমে অষ্টম পারার শেষাংশ এবং নবম পারা সম্পন্ন হবে। এই দুই সূরায় আল্লাহর একত্ববাদ, নবীদের কাহিনী, শয়তানের ধোঁকা এবং ঈমানদারদের করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে।

সূরা আরাফ: মানবজাতির প্রতি আল্লাহর আহ্বান ও শয়তানের ছলনা

মক্কায় অবতীর্ণ সূরা আরাফ তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাত—এই তিন মৌলিক আকিদার উপর জোর দেয়। সূরার শুরুতে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অলৌকিক গ্রন্থ আল-কোরআনের আলোচনা রয়েছে। এরপর মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.)-এর সৃষ্টির ঘটনা বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা শয়তানের প্ররোচনা থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ইবলিস কর্তৃক আদম (আ.)-কে সিজদার নির্দেশ অমান্য করার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে তার শত্রুতার যে ধারা শুরু হয়েছিল, তা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে ঈমানদাররা আল্লাহর আদেশ পালনের মাধ্যমে শয়তানকে পরাজিত করতে সক্ষম হবে।

সূরা আরাফের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এতে আল্লাহ তাআলা চারবার ‘হে আদম সন্তান!’ বলে মানবজাতিকে সম্বোধন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম তিনটি সম্বোধনই পরিধেয় বস্ত্রের গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে। এটি থেকে অনুমান করা যায় যে, শালীনতা ও লজ্জাশরমের ক্ষেত্রে পোশাকের গুরুত্ব অপরিসীম। শয়তানের অন্যতম লক্ষ্য হলো মানুষকে এই লজ্জাশরম থেকে বিচ্যুত করে উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার পথে চালিত করা।

সূরা আরাফে আরও রয়েছে:
মুশরিকদের উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করার বিষয়টি এবং তাদের এই কুপ্রথাকে ‘আল্লাহ কখনও বেহায়াপনার নির্দেশ দেন না’ বলে খণ্ডন।
জান্নাত ও জাহান্নামবাসীদের কথোপকথন এবং ‘আরাফবাসী’দের (যারা মূলত মুমিন তবে নেক আমলের দিক থেকে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় জান্নাতে প্রবেশে বিলম্ব হবে) বিবরণ।
আল্লাহর অসীম কুদরত ও একত্ববাদের নিদর্শন হিসেবে খুঁটিবিহীন আকাশ, চাঁদ, তারা ও সূর্যের উল্লেখ।
নুহ (আ.), হুদ (আ.), সালেহ (আ.), লুত (আ.), শুআইব (আ.) ও মুসা (আ.)—এই ছয়জন নবীর সংক্ষিপ্ত কাহিনী।

নবম পারার শুরুতে হযরত শুআইব (আ.) ও তার জাতির আলোচনার রেশ ধরে বলা হয়েছে যে, অবিশ্বাসী জনগোষ্ঠীকে আল্লাহ তাআলা দীর্ঘ অবকাশ দেন, কিন্তু একসময় হঠাৎ করে তাদের পাকড়াও করেন। নবীদের এই ঘটনাবলী বিশ্বনবী (সা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূরা আরাফে হযরত মুসা (আ.)-এর কাহিনী সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। তার লাঠি ও শুভ্র হাতের মোজেজা ফেরাউন ও তার অনুসারীদের কাছে জাদু মনে হয়েছিল। মুসা (আ.)-এর লাঠি সাপের রূপ ধারণ করে জাদুকরদের সাপের সবগুলোকে গিলে ফেলে, যা দেখে জাদুকররা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ঈমান আনেন। কিন্তু ফেরাউন তাদের ঈমানের ‘অপরাধে’ শূলে চড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ফেরাউন বনি ইসরাইলকে দাস বানিয়ে রেখেছিল, কিন্তু মুসা (আ.) তাদের দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন। ফেরাউন ও তার জাতির অহংকার ও অবাধ্যতার ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের উপর তুফান, পঙ্গপাল, উকুন ও পানিকে রক্তে পরিণত করার মতো বিভিন্ন আজাব নাজিল করেন। আজাব দেখলে তারা তওবা করত, কিন্তু পুনরায় হঠকারিতা করত।

বনি ইসরাইল ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে তাওরাত দান করেন। কিন্তু তুর পাহাড়ে তাওরাত আনতে গেলে সামেরি বনি ইসরাইলকে গো-পূজায় লিপ্ত করে। এছাড়াও, শনিবারে মাছ ধরতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন বাহানা করে মাছ ধরত, যার ফলে তারা শাস্তি পেয়েছিল।

সূরার শেষাংশে বালআম বিন বাওরা নামক এক ব্যক্তির ঘটনা রয়েছে, যিনি আল্লাহ প্রদত্ত ইলমকে দুনিয়ার তুচ্ছ স্বার্থে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। কাফেরদেরকে চতুষ্পদ জন্তুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, কারণ তারা নিজেদের দিল, চোখ ও কান দিয়ে কোনো ফায়দা অর্জন করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা কাফেরদের এই দুনিয়ায় ছাড় দিতে থাকেন, কিন্তু একসময় হঠাৎ করেই তাদের পাকড়াও করেন। কিয়ামতের নির্দিষ্ট জ্ঞান কেবল আল্লাহ তাআলাই জানেন। আল্লাহ তাআলা বিশ্বনবী (সা.)-কে সৎচরিত্র অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা আরাফের সূচনা হয়েছিল কোরআনের আলোচনা দিয়ে এবং শেষও হয়েছে কোরআনের মাহাত্ম্য, বড়ত্ব এবং আদব ও সম্মানের আলোচনার মাধ্যমে।

সূরা আনফাল: জিহাদের নির্দেশনা ও বদর যুদ্ধের শিক্ষা

মদিনায় অবতীর্ণ সূরা আনফাল শরিয়তের বিধিবিধান, বিশেষ করে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর উপর গুরুত্ব আরোপ করে। প্রথম আয়াতে গনিমতের সম্পদ বণ্টননীতি প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। ঈমানদার ব্যক্তির কিছু বৈশিষ্ট্য (২-৪) উল্লেখ করার পর পরবর্তী আয়াতগুলোতে বদর যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় রুকুতে নবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র ও ঈমানের পথে বাধাদানের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাদের চক্রান্তের সমুচিত জবাব দেবেন এবং তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য কেতাল ও জিহাদের নির্দেশনার মাধ্যমে নবম পারা সমাপ্ত হয়েছে।

লেখক: সিনিয়র পেশ ইমাম, বুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদ

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

ষষ্ঠ তারাবি: শয়তান উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার পথ দেখায়

আপডেট সময় : ১০:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## ষষ্ঠ তারাবিতে শয়তানের প্ররোচনা ও আত্মরক্ষার নির্দেশনা

ঢাকা: আজ পবিত্র রমজানের ষষ্ঠ তারাবিতে সূরা আরাফ (১২-২০৬) এবং সূরা আনফালের (১-৪০) আয়াত পাঠ করা হবে। এর মাধ্যমে অষ্টম পারার শেষাংশ এবং নবম পারা সম্পন্ন হবে। এই দুই সূরায় আল্লাহর একত্ববাদ, নবীদের কাহিনী, শয়তানের ধোঁকা এবং ঈমানদারদের করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে।

সূরা আরাফ: মানবজাতির প্রতি আল্লাহর আহ্বান ও শয়তানের ছলনা

মক্কায় অবতীর্ণ সূরা আরাফ তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাত—এই তিন মৌলিক আকিদার উপর জোর দেয়। সূরার শুরুতে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অলৌকিক গ্রন্থ আল-কোরআনের আলোচনা রয়েছে। এরপর মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.)-এর সৃষ্টির ঘটনা বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা শয়তানের প্ররোচনা থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ইবলিস কর্তৃক আদম (আ.)-কে সিজদার নির্দেশ অমান্য করার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে তার শত্রুতার যে ধারা শুরু হয়েছিল, তা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে ঈমানদাররা আল্লাহর আদেশ পালনের মাধ্যমে শয়তানকে পরাজিত করতে সক্ষম হবে।

সূরা আরাফের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এতে আল্লাহ তাআলা চারবার ‘হে আদম সন্তান!’ বলে মানবজাতিকে সম্বোধন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম তিনটি সম্বোধনই পরিধেয় বস্ত্রের গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে। এটি থেকে অনুমান করা যায় যে, শালীনতা ও লজ্জাশরমের ক্ষেত্রে পোশাকের গুরুত্ব অপরিসীম। শয়তানের অন্যতম লক্ষ্য হলো মানুষকে এই লজ্জাশরম থেকে বিচ্যুত করে উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার পথে চালিত করা।

সূরা আরাফে আরও রয়েছে:
মুশরিকদের উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করার বিষয়টি এবং তাদের এই কুপ্রথাকে ‘আল্লাহ কখনও বেহায়াপনার নির্দেশ দেন না’ বলে খণ্ডন।
জান্নাত ও জাহান্নামবাসীদের কথোপকথন এবং ‘আরাফবাসী’দের (যারা মূলত মুমিন তবে নেক আমলের দিক থেকে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় জান্নাতে প্রবেশে বিলম্ব হবে) বিবরণ।
আল্লাহর অসীম কুদরত ও একত্ববাদের নিদর্শন হিসেবে খুঁটিবিহীন আকাশ, চাঁদ, তারা ও সূর্যের উল্লেখ।
নুহ (আ.), হুদ (আ.), সালেহ (আ.), লুত (আ.), শুআইব (আ.) ও মুসা (আ.)—এই ছয়জন নবীর সংক্ষিপ্ত কাহিনী।

নবম পারার শুরুতে হযরত শুআইব (আ.) ও তার জাতির আলোচনার রেশ ধরে বলা হয়েছে যে, অবিশ্বাসী জনগোষ্ঠীকে আল্লাহ তাআলা দীর্ঘ অবকাশ দেন, কিন্তু একসময় হঠাৎ করে তাদের পাকড়াও করেন। নবীদের এই ঘটনাবলী বিশ্বনবী (সা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূরা আরাফে হযরত মুসা (আ.)-এর কাহিনী সবচেয়ে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। তার লাঠি ও শুভ্র হাতের মোজেজা ফেরাউন ও তার অনুসারীদের কাছে জাদু মনে হয়েছিল। মুসা (আ.)-এর লাঠি সাপের রূপ ধারণ করে জাদুকরদের সাপের সবগুলোকে গিলে ফেলে, যা দেখে জাদুকররা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ঈমান আনেন। কিন্তু ফেরাউন তাদের ঈমানের ‘অপরাধে’ শূলে চড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ফেরাউন বনি ইসরাইলকে দাস বানিয়ে রেখেছিল, কিন্তু মুসা (আ.) তাদের দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন। ফেরাউন ও তার জাতির অহংকার ও অবাধ্যতার ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের উপর তুফান, পঙ্গপাল, উকুন ও পানিকে রক্তে পরিণত করার মতো বিভিন্ন আজাব নাজিল করেন। আজাব দেখলে তারা তওবা করত, কিন্তু পুনরায় হঠকারিতা করত।

বনি ইসরাইল ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে তাওরাত দান করেন। কিন্তু তুর পাহাড়ে তাওরাত আনতে গেলে সামেরি বনি ইসরাইলকে গো-পূজায় লিপ্ত করে। এছাড়াও, শনিবারে মাছ ধরতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন বাহানা করে মাছ ধরত, যার ফলে তারা শাস্তি পেয়েছিল।

সূরার শেষাংশে বালআম বিন বাওরা নামক এক ব্যক্তির ঘটনা রয়েছে, যিনি আল্লাহ প্রদত্ত ইলমকে দুনিয়ার তুচ্ছ স্বার্থে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। কাফেরদেরকে চতুষ্পদ জন্তুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, কারণ তারা নিজেদের দিল, চোখ ও কান দিয়ে কোনো ফায়দা অর্জন করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা কাফেরদের এই দুনিয়ায় ছাড় দিতে থাকেন, কিন্তু একসময় হঠাৎ করেই তাদের পাকড়াও করেন। কিয়ামতের নির্দিষ্ট জ্ঞান কেবল আল্লাহ তাআলাই জানেন। আল্লাহ তাআলা বিশ্বনবী (সা.)-কে সৎচরিত্র অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা আরাফের সূচনা হয়েছিল কোরআনের আলোচনা দিয়ে এবং শেষও হয়েছে কোরআনের মাহাত্ম্য, বড়ত্ব এবং আদব ও সম্মানের আলোচনার মাধ্যমে।

সূরা আনফাল: জিহাদের নির্দেশনা ও বদর যুদ্ধের শিক্ষা

মদিনায় অবতীর্ণ সূরা আনফাল শরিয়তের বিধিবিধান, বিশেষ করে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর উপর গুরুত্ব আরোপ করে। প্রথম আয়াতে গনিমতের সম্পদ বণ্টননীতি প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। ঈমানদার ব্যক্তির কিছু বৈশিষ্ট্য (২-৪) উল্লেখ করার পর পরবর্তী আয়াতগুলোতে বদর যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় রুকুতে নবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র ও ঈমানের পথে বাধাদানের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাদের চক্রান্তের সমুচিত জবাব দেবেন এবং তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য কেতাল ও জিহাদের নির্দেশনার মাধ্যমে নবম পারা সমাপ্ত হয়েছে।

লেখক: সিনিয়র পেশ ইমাম, বুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদ