ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আলুচাষে মহাবিপদ: তানোরে ৮-৯ টাকায় বিক্রি, ‘ঢলনে’ লোকসানের পাহাড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর তানোরের আলুচাষিরা এক গভীর সংকটের মুখে। চলতি মৌসুমে আলুর অস্বাভাবিক দরপতন এবং ‘ঢলন’ প্রথার কারণে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, ঋণের বোঝাই বাড়ছে তাদের। প্রতি কেজি আলু ৮ থেকে ৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কোথাও কোথাও ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে। এর ওপর প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৫ কেজি ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হচ্ছে, যা কৃষকদের পথে বসার উপক্রম করেছে।

উপজেলার আলুচাষি রায়হান কবিরের তিক্ত অভিজ্ঞতা। তিনি এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করে ৪০ থেকে ৪৫ বস্তা ফলন পেয়েছেন। বর্তমানে প্রতি বস্তা আলুর বাজারমূল্য ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। এতে বিঘাপ্রতি তার আয় দাঁড়াচ্ছে ২২ থেকে ২৮ হাজার টাকা। অথচ, এক বিঘা জমিতে আলু উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। ফলে বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার টাকারও বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে।

একই চিত্র আরেক চাষি মেজবাউলের। আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন মাত্র ২৫ হাজার টাকার মতো। হতাশাগ্রস্ত মেজবাউল বলেন, “এভাবে চললে ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।”

কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ থেকে ৭০ কেজির বস্তা তোলা হলেও দাম দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৬৫ কেজির। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় ৫ কেজি করে অতিরিক্ত আলু ‘ঢলন’ হিসেবে দিতে হচ্ছে। এর ফলে বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫০ কেজি আলু অতিরিক্ত চলে যাচ্ছে, যার বাজারমূল্য কয়েক হাজার টাকা। এই প্রথাকে কৃষকরা তাদের লোকসানের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। তবে ব্যবসায়ীদের যুক্তি ভিন্ন। তারা বলছেন, পরিবহন ও সংরক্ষণের সময় আলুর স্বাভাবিক ওজন কমার আশঙ্কা থাকে, তাই এই অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়।

কৃষকরা জানান, এখনো পুরোপুরি আলু তোলার কাজ শুরু হয়নি। প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে রহিমাডাঙ্গা বিল এলাকায় আলু ওঠা শুরু হয়েছিল। তখন কেজিপ্রতি দাম ছিল সাড়ে ৯ টাকা। বর্তমানে তা কমে ৮ টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে। জমি লিজ ও বীজের দাম কিছুটা কম থাকলেও সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এ বছর উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ হেক্টরের আলু ইতোমধ্যে তোলা হয়েছে এবং ফলনও মোটামুটি সন্তোষজনক। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কৃষকরা যাতে আলু সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সুবিধা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি উন্নত হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলি হামলায় ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে ৪০ ছাত্রী নিহত: শোকের ছায়া

আলুচাষে মহাবিপদ: তানোরে ৮-৯ টাকায় বিক্রি, ‘ঢলনে’ লোকসানের পাহাড়

আপডেট সময় : ১০:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর তানোরের আলুচাষিরা এক গভীর সংকটের মুখে। চলতি মৌসুমে আলুর অস্বাভাবিক দরপতন এবং ‘ঢলন’ প্রথার কারণে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, ঋণের বোঝাই বাড়ছে তাদের। প্রতি কেজি আলু ৮ থেকে ৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কোথাও কোথাও ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে। এর ওপর প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৫ কেজি ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হচ্ছে, যা কৃষকদের পথে বসার উপক্রম করেছে।

উপজেলার আলুচাষি রায়হান কবিরের তিক্ত অভিজ্ঞতা। তিনি এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করে ৪০ থেকে ৪৫ বস্তা ফলন পেয়েছেন। বর্তমানে প্রতি বস্তা আলুর বাজারমূল্য ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। এতে বিঘাপ্রতি তার আয় দাঁড়াচ্ছে ২২ থেকে ২৮ হাজার টাকা। অথচ, এক বিঘা জমিতে আলু উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। ফলে বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার টাকারও বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে।

একই চিত্র আরেক চাষি মেজবাউলের। আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন মাত্র ২৫ হাজার টাকার মতো। হতাশাগ্রস্ত মেজবাউল বলেন, “এভাবে চললে ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।”

কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ থেকে ৭০ কেজির বস্তা তোলা হলেও দাম দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৬৫ কেজির। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় ৫ কেজি করে অতিরিক্ত আলু ‘ঢলন’ হিসেবে দিতে হচ্ছে। এর ফলে বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫০ কেজি আলু অতিরিক্ত চলে যাচ্ছে, যার বাজারমূল্য কয়েক হাজার টাকা। এই প্রথাকে কৃষকরা তাদের লোকসানের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। তবে ব্যবসায়ীদের যুক্তি ভিন্ন। তারা বলছেন, পরিবহন ও সংরক্ষণের সময় আলুর স্বাভাবিক ওজন কমার আশঙ্কা থাকে, তাই এই অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়।

কৃষকরা জানান, এখনো পুরোপুরি আলু তোলার কাজ শুরু হয়নি। প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে রহিমাডাঙ্গা বিল এলাকায় আলু ওঠা শুরু হয়েছিল। তখন কেজিপ্রতি দাম ছিল সাড়ে ৯ টাকা। বর্তমানে তা কমে ৮ টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে। জমি লিজ ও বীজের দাম কিছুটা কম থাকলেও সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এ বছর উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ হেক্টরের আলু ইতোমধ্যে তোলা হয়েছে এবং ফলনও মোটামুটি সন্তোষজনক। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কৃষকরা যাতে আলু সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সুবিধা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি উন্নত হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।