ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চরফ্যাশনে নিষিদ্ধ আ.লীগ কার্যালয়ে ‘উদ্বোধনী’ ব্যানার: রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চরফ্যাশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপজেলা কার্যালয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সেখানে একটি ‘উদ্বোধনী’ ব্যানার টানানো হয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এই ব্যানারটি সাঁটিয়ে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কলেজ রোড এলাকার সাবেক আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দেওয়ালে ব্যানারটি দেখা যায় গত রবিবার সকালে। আশেপাশে কয়েকজন দোকানদার জানান, ভোরে বাজারে এসে তারা ব্যানারটি দেখতে পান। ব্যানারে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চরফ্যাশন উপজেলা কার্যালয়’ লেখা ছিল এবং সৌজন্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং সদস্য মো. নাজমুল হোসেন জুয়েলের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। ব্যানার টানানোর পরপরই সংশ্লিষ্টরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কারও নজরে আসেনি।

তবে রবিবার দুপুরের আগেই পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম নয়ন ব্যানারটি খুলে ফেলেন। এই ঘটনার পর থেকেই চরফ্যাশনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের পোস্টে এই ঘটনাকে চরফ্যাশনের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার একটি চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, “চরফ্যাশনের জনপদে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীকে পুনর্বাসন করতে দেওয়া হবে না।” একই সুরে কথা বলেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুব শক্তির সমন্বয়ক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি আওয়ামী দোসরদের অপতত্পরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। কারা ব্যানার টানিয়েছে, প্রশাসনকে তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় এই কার্যালয়টি ভাঙচুর করা হয়েছিল এবং এরপর থেকে এটি সম্পূর্ণ অব্যবহৃত ছিল। মাঝে এনসিপি চরফ্যাশন উপজেলা শাখা অল্প সময়ের জন্য অফিসটি ব্যবহার করলেও পরবর্তীতে সেটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন মিত্ররা লক্ষ্যবস্তু

চরফ্যাশনে নিষিদ্ধ আ.লীগ কার্যালয়ে ‘উদ্বোধনী’ ব্যানার: রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়

আপডেট সময় : ১০:০২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চরফ্যাশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপজেলা কার্যালয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সেখানে একটি ‘উদ্বোধনী’ ব্যানার টানানো হয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এই ব্যানারটি সাঁটিয়ে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কলেজ রোড এলাকার সাবেক আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দেওয়ালে ব্যানারটি দেখা যায় গত রবিবার সকালে। আশেপাশে কয়েকজন দোকানদার জানান, ভোরে বাজারে এসে তারা ব্যানারটি দেখতে পান। ব্যানারে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চরফ্যাশন উপজেলা কার্যালয়’ লেখা ছিল এবং সৌজন্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং সদস্য মো. নাজমুল হোসেন জুয়েলের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। ব্যানার টানানোর পরপরই সংশ্লিষ্টরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কারও নজরে আসেনি।

তবে রবিবার দুপুরের আগেই পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম নয়ন ব্যানারটি খুলে ফেলেন। এই ঘটনার পর থেকেই চরফ্যাশনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের পোস্টে এই ঘটনাকে চরফ্যাশনের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার একটি চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, “চরফ্যাশনের জনপদে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীকে পুনর্বাসন করতে দেওয়া হবে না।” একই সুরে কথা বলেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুব শক্তির সমন্বয়ক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি আওয়ামী দোসরদের অপতত্পরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। কারা ব্যানার টানিয়েছে, প্রশাসনকে তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় এই কার্যালয়টি ভাঙচুর করা হয়েছিল এবং এরপর থেকে এটি সম্পূর্ণ অব্যবহৃত ছিল। মাঝে এনসিপি চরফ্যাশন উপজেলা শাখা অল্প সময়ের জন্য অফিসটি ব্যবহার করলেও পরবর্তীতে সেটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।