মুসলিম উম্মাহর জীবনে সংযম, আত্মশুদ্ধি ও বরকতের অনন্য বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আগমন করে পবিত্র মাহে রমজান। এটি কেবল উপবাস আর আত্মনিয়ন্ত্রণের মাসই নয়; বরং মানবজাতির হেদায়েতের জন্য অবতীর্ণ সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল-কোরআনের স্মরণবাহী মাস। এই মাসেই রোজা ফরজ করা হয়েছে, নাজিল হয়েছে কোরআন এবং হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদরের মতো উপহার এই মাসকে মর্যাদার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা রমজানের মাধ্যমে বান্দাকে পাপমুক্ত হয়ে নতুন জীবন গঠনের এক সুবর্ণ সুযোগ দান করেন। তাই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে একে যথাযথভাবে পালন করাই মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
রমজান আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ রহমতের মাস, ইবাদতের বসন্তকাল। এই মাসেই মানবজাতির জন্য হেদায়েতের আলোকবর্তিকা, সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। কোরআনের এই অবতরণই রমজানকে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নিজেই ঘোষণা করেছেন, রমজান মাসেই মানুষের দিশারি এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী রূপে কোরআন নাজিল হয়েছে। তাই যারা এই মাস পাবে, তাদের রোজা পালন করা উচিত। এই মাসেই রয়েছে লাইলাতুল কদর, হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এক মহিমান্বিত রজনী। এই রাতে ফেরেশতা ও রুহুল কুদুস (জিবরাইল আ.) আল্লাহর নির্দেশে সমস্ত মঙ্গলময় বস্তু নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, যা ফজর পর্যন্ত শান্তি ও বরকতে পূর্ণ থাকে।
রমজান মাস মূলত আত্মগঠন ও জীবনকে নতুন করে সাজানোর এক অসাধারণ সুযোগ নিয়ে আসে। এই মাসে জান্নাতের দুয়ারগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। এর ফলে মুমিনদের জন্য ইবাদত-বন্দেগি ও নেক আমলের এক অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। আল্লাহ তায়ালা এই মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেন এবং ক্ষমা ও অনুগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন। প্রতিদিন ইফতারের সময় অসংখ্য বান্দাকে তিনি জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। এই বিশেষ পরিবেশে মানুষের মনে ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ জন্মে এবং খোদাভীতি সৃষ্টি হয়, যা তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যখন রমজান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।”
তবে, এই বরকতময় মাসেও যারা আল্লাহর ক্ষমা ও মুক্তির এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়, তাদের জন্য রয়েছে দুর্ভাগ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন ব্যক্তির জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, যার কাছে রমজান মাস আসে এবং চলে যায়, অথচ সে তার পাপগুলো ক্ষমা করিয়ে নিতে পারে না। আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন অবারিত ক্ষমা ও রহমতের মাস পেয়েও যারা নিজেদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করতে পারে না, তারা নিঃসন্দেহে এক বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
সুতরাং, মাহে রমজান কেবল একটি উপবাসের মাস নয়, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক অপূর্ব উপহার। এই মাস আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং নেক আমলের পথকে সহজ করে দেয়। আমাদের সকলের উচিত, গাফিলতি পরিহার করে অত্যন্ত সচেতনতা, ইখলাস ও আন্তরিকতার সাথে রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো। এর মাধ্যমে আমরা যেন আমাদের জীবনকে আমূল পরিবর্তন করতে পারি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি লাভে ধন্য হতে পারি।
রিপোর্টারের নাম 























