ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন সরকার, নতুন চ্যালেঞ্জ: তারেক রহমানের সামনে অর্থনীতির কঠিন সমীকরণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

এক দশক পর দেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর প্রথম এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার মসনদে এসেছেন দলটির প্রধান তারেক রহমান। তবে নতুন সরকারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নির্ভর করবে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক সম্পর্ক সামলানোসহ একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী, যারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে (খুলনা, রাজশাহী, রংপুর) ভালো সমর্থন পেয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিই পালাক্রমে দেশের শাসনভার সামলেছে। যদিও জামায়াত কখনো এককভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি, তবে দলটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই এমন একটি খ্যাতি রয়েছে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, অর্থনীতির ক্ষেত্রে কোনো হোঁচট খেলে একদিকে জামায়াত এবং অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুপ্ত জনসমর্থনের চাপের মুখে পড়তে পারে নতুন সরকার। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কর্মসংস্থান ও দুর্নীতি নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা সহজে মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া তারেক রহমানকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তবে তার রাজনৈতিক সাফল্য নির্ভর করবে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার ওপর।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও প্রতিবন্ধকতা
বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার ৪৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে প্রতি বছর প্রায় ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা বর্তমানে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেশের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। দলটি শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। তবে এ ধরনের লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা এখনো নেই। প্রবৃদ্ধির হার দ্বিগুণের বেশি করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

গত দেড় বছর ধরে উচ্চ সুদহার অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করেন, শুধু মুদ্রানীতিই নয়; বরং বণ্টনব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যাই উচ্চ খাদ্যমূল্যের প্রধান কারণ। এটিই তারেক রহমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের অর্থনীতিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে কৃষি খাত, যেখানে প্রায় ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত (মোট কর্মসংস্থানের ৪৪ শতাংশ)। শহরাঞ্চলে খাদ্যের দাম কমাতে এবং দুর্ভোগে থাকা কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। খামার থেকে শহর পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ প্রক্রিয়ায় জড়িত শক্তিশালী ও অনিয়ন্ত্রিত মধ্যস্বত্বভোগীদের দমনে কাজ করতে হবে। সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাকে ফসল কাটার পরবর্তী লজিস্টিক খাতেও বিনিয়োগ করতে হবে।

রেমিট্যান্স ও শ্রম রপ্তানি
প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রবাসী আয়কে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) যেকোনো কর্মসূচির চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি বিদেশে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করেন। তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় আইএমএফের চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখছেন। মাত্র তিন মাসে তারা প্রায় ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশটির জন্য দেওয়া আইএমএফের পুরো সহায়তা প্যাকেজের সমান। ২০২৪ সালে পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর অনেক প্রবাসীকর্মী অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলের পরিবর্তে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে আগ্রহী হন। এর ফল ছিল নাটকীয় রেমিট্যান্স বৃদ্ধি; ২০২৩ সালের ২১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই ৯ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি আমেরিকান বাজারে বাংলাদেশের মোট বার্ষিক পোশাক রপ্তানির চেয়েও বেশি। যদি অবৈধ চ্যানেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ হারাতে পারে। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি চাকরির জন্য বিদেশে যান। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার পথ, কারণ প্রতি বছর ২০ লাখ নতুন কর্মপ্রত্যাশী তৈরি হলেও দেশের অর্থনীতি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে না। দুর্ভাগ্যবশত, শ্রম রপ্তানি খাতে তীব্র দুর্নীতি ও শোষণ বিদ্যমান। বেশ কিছু দেশ এরই মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে, যা নতুন সুযোগের জন্য বাংলাদেশকে বিপজ্জনকভাবে সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও এলডিসি উত্তরণ
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বিষয়ক একটি প্রতিবেদনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খান আহমেদ সাঈদ মুরশিদ। তিনি দেশে সামগ্রিক সংস্কারের বিষয়ে বাস্তববাদী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপির উচিত বড় পরিকল্পনা মাথায় রাখা, তবে জরুরি বাস্তবায়নের জন্য ‘উচ্চ-প্রভাবশালী ছোট ছোট প্রকল্পের দিকেও দৃষ্টি রাখা। নতুন প্রশাসনকে অবশ্যই শিল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক খাত মেরামত করতে হবে।’ তার মতে, ‘সব কিছুর ওপরে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, যার ফলে বাংলাদেশ সেই বাণিজ্যিক সুবিধাগুলো হারাবে, যার ওপর রপ্তানিকারকরা এখনো নির্ভরশীল।’

ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ভারসাম্য
অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন একটি দেশের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তারেক রহমানের প্রাথমিক পদক্ষেপের অগ্রাধিকারে কিছুটা বিভ্রান্তির ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি আসিয়ানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সামনে প্রথম উপস্থিত হয়ে তারেক রহমান সার্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা ১৯৮০ সালে তার বাবা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। সার্ক বর্তমানে একটি অকার্যকর আঞ্চলিক সংস্থা। গত বছর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সঙ্গে উপমহাদেশের সার্বিক আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যও অন্যতম অনুঘটক। অপর দিকে আসিয়ান সদস্য দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী এখনো বাংলাদেশে রয়েছে, যার কোনো সমাধান এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। আসিয়ানে যোগ দিলে বাংলাদেশ বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ পাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সীমান্ত থাকলেও ২০২৪ সালে পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যান এবং তাকে বিচারের জন্য হস্তান্তরে দিল্লির অস্বীকৃতি ঢাকায় তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে দুই দেশের মধ্যে কার্যত ভিসা কার্যক্রমও এখন স্থগিত। ক্রীড়াক্ষেত্রেও ভালো সম্পর্কের অবনতি দেখা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতি ব্যাপক ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পা বাড়াতে হবে। অন্যদিকে অবকাঠামো বা নতুন শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা ভারতের অত্যন্ত কম। দিল্লির বিরুদ্ধে একপেশে চুক্তি চাপিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ আছে, বিশেষ করে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি। এই গ্রুপটির সঙ্গে ভারত সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে এবং তারা বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। দিল্লির উচিত হবে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো অথবা ভাটির দেশ বাংলাদেশের দিকে পানির ন্যায্য প্রবাহে একমত হওয়া। এই ফ্রন্টগুলোর কোনোটিতেই দিল্লির নমনীয় হওয়ার সম্ভাবনা কম হওয়ায় ভবিষ্যতে দুই দেশের যেকোনো সমঝোতা সীমিত থাকবে বলে মনে হয়।

তারেক রহমানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, যাদের সঙ্গে বার্ষিক প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আছে। বেইজিং ঢাকার প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারীও বটে। সম্প্রতি দুই দেশ বাংলাদেশে একটি ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনের চুক্তি করেছে। বেইজিং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির একক বৃহত্তম বাজার এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে তারা শীর্ষে আছে। জাতীয় নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, তিনি নতুন সরকারের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ‘ঝুঁকিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।’ তার এ বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বেইজিংয়ে। ক্রিস্টেনসেন ইঙ্গিত দেন, ওয়াশিংটন সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যে ‘সুযোগ-সুবিধা’ অফার করে থাকে, তার ওপর জোর দেবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার যে বিনিয়োগবান্ধব, সে বিষয়ে তারেক রহমান সরকারের সুস্পষ্ট ইঙ্গিতের অপেক্ষায় আছেন তারা।

বাংলাদেশি অভিজাত শ্রেণির রাজনৈতিক ঝোঁক পশ্চিমের দিকে হলেও তারা জানেন যে, অবকাঠামো বিনিয়োগ মূলত এশিয়া থেকেই এসেছে। জাপান ও চীন সেতু, বন্দর ও রেলপথ নির্মাণে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বেইজিং নদীর পানি সঞ্চয় করে সেচ কাজে সহায়তার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। গত বছর ১৪৩টি চীনা কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে গেলেও তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেনি। চীনারা অপেক্ষায় আছে তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার। তিনি যদি ওয়াশিংটনকে ‘সুস্পষ্ট সংকেত’ দেন, তবে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে চীনা বিনিয়োগের জন্য তারেক রহমান বেইজিং সফরে যেতে হতে পারে।

তারেক রহমানের জন্য চ্যালেঞ্জগুলি তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার এবং বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আনার সুযোগ রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

নতুন সরকার, নতুন চ্যালেঞ্জ: তারেক রহমানের সামনে অর্থনীতির কঠিন সমীকরণ

আপডেট সময় : ০৯:৪০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এক দশক পর দেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর প্রথম এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার মসনদে এসেছেন দলটির প্রধান তারেক রহমান। তবে নতুন সরকারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নির্ভর করবে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক সম্পর্ক সামলানোসহ একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী, যারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে (খুলনা, রাজশাহী, রংপুর) ভালো সমর্থন পেয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিই পালাক্রমে দেশের শাসনভার সামলেছে। যদিও জামায়াত কখনো এককভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি, তবে দলটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই এমন একটি খ্যাতি রয়েছে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, অর্থনীতির ক্ষেত্রে কোনো হোঁচট খেলে একদিকে জামায়াত এবং অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুপ্ত জনসমর্থনের চাপের মুখে পড়তে পারে নতুন সরকার। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কর্মসংস্থান ও দুর্নীতি নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা সহজে মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া তারেক রহমানকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তবে তার রাজনৈতিক সাফল্য নির্ভর করবে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার ওপর।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও প্রতিবন্ধকতা
বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার ৪৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে প্রতি বছর প্রায় ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা বর্তমানে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেশের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। দলটি শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। তবে এ ধরনের লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা এখনো নেই। প্রবৃদ্ধির হার দ্বিগুণের বেশি করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

গত দেড় বছর ধরে উচ্চ সুদহার অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করেন, শুধু মুদ্রানীতিই নয়; বরং বণ্টনব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যাই উচ্চ খাদ্যমূল্যের প্রধান কারণ। এটিই তারেক রহমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের অর্থনীতিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে কৃষি খাত, যেখানে প্রায় ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত (মোট কর্মসংস্থানের ৪৪ শতাংশ)। শহরাঞ্চলে খাদ্যের দাম কমাতে এবং দুর্ভোগে থাকা কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। খামার থেকে শহর পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ প্রক্রিয়ায় জড়িত শক্তিশালী ও অনিয়ন্ত্রিত মধ্যস্বত্বভোগীদের দমনে কাজ করতে হবে। সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাকে ফসল কাটার পরবর্তী লজিস্টিক খাতেও বিনিয়োগ করতে হবে।

রেমিট্যান্স ও শ্রম রপ্তানি
প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রবাসী আয়কে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) যেকোনো কর্মসূচির চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি বিদেশে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করেন। তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় আইএমএফের চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখছেন। মাত্র তিন মাসে তারা প্রায় ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশটির জন্য দেওয়া আইএমএফের পুরো সহায়তা প্যাকেজের সমান। ২০২৪ সালে পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর অনেক প্রবাসীকর্মী অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলের পরিবর্তে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে আগ্রহী হন। এর ফল ছিল নাটকীয় রেমিট্যান্স বৃদ্ধি; ২০২৩ সালের ২১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই ৯ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি আমেরিকান বাজারে বাংলাদেশের মোট বার্ষিক পোশাক রপ্তানির চেয়েও বেশি। যদি অবৈধ চ্যানেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ হারাতে পারে। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি চাকরির জন্য বিদেশে যান। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার পথ, কারণ প্রতি বছর ২০ লাখ নতুন কর্মপ্রত্যাশী তৈরি হলেও দেশের অর্থনীতি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে না। দুর্ভাগ্যবশত, শ্রম রপ্তানি খাতে তীব্র দুর্নীতি ও শোষণ বিদ্যমান। বেশ কিছু দেশ এরই মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে, যা নতুন সুযোগের জন্য বাংলাদেশকে বিপজ্জনকভাবে সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও এলডিসি উত্তরণ
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বিষয়ক একটি প্রতিবেদনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খান আহমেদ সাঈদ মুরশিদ। তিনি দেশে সামগ্রিক সংস্কারের বিষয়ে বাস্তববাদী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপির উচিত বড় পরিকল্পনা মাথায় রাখা, তবে জরুরি বাস্তবায়নের জন্য ‘উচ্চ-প্রভাবশালী ছোট ছোট প্রকল্পের দিকেও দৃষ্টি রাখা। নতুন প্রশাসনকে অবশ্যই শিল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক খাত মেরামত করতে হবে।’ তার মতে, ‘সব কিছুর ওপরে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, যার ফলে বাংলাদেশ সেই বাণিজ্যিক সুবিধাগুলো হারাবে, যার ওপর রপ্তানিকারকরা এখনো নির্ভরশীল।’

ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ভারসাম্য
অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন একটি দেশের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তারেক রহমানের প্রাথমিক পদক্ষেপের অগ্রাধিকারে কিছুটা বিভ্রান্তির ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি আসিয়ানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সামনে প্রথম উপস্থিত হয়ে তারেক রহমান সার্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা ১৯৮০ সালে তার বাবা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। সার্ক বর্তমানে একটি অকার্যকর আঞ্চলিক সংস্থা। গত বছর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সঙ্গে উপমহাদেশের সার্বিক আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যও অন্যতম অনুঘটক। অপর দিকে আসিয়ান সদস্য দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী এখনো বাংলাদেশে রয়েছে, যার কোনো সমাধান এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। আসিয়ানে যোগ দিলে বাংলাদেশ বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ পাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সীমান্ত থাকলেও ২০২৪ সালে পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যান এবং তাকে বিচারের জন্য হস্তান্তরে দিল্লির অস্বীকৃতি ঢাকায় তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে দুই দেশের মধ্যে কার্যত ভিসা কার্যক্রমও এখন স্থগিত। ক্রীড়াক্ষেত্রেও ভালো সম্পর্কের অবনতি দেখা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতি ব্যাপক ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পা বাড়াতে হবে। অন্যদিকে অবকাঠামো বা নতুন শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা ভারতের অত্যন্ত কম। দিল্লির বিরুদ্ধে একপেশে চুক্তি চাপিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ আছে, বিশেষ করে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি। এই গ্রুপটির সঙ্গে ভারত সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে এবং তারা বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। দিল্লির উচিত হবে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো অথবা ভাটির দেশ বাংলাদেশের দিকে পানির ন্যায্য প্রবাহে একমত হওয়া। এই ফ্রন্টগুলোর কোনোটিতেই দিল্লির নমনীয় হওয়ার সম্ভাবনা কম হওয়ায় ভবিষ্যতে দুই দেশের যেকোনো সমঝোতা সীমিত থাকবে বলে মনে হয়।

তারেক রহমানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, যাদের সঙ্গে বার্ষিক প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আছে। বেইজিং ঢাকার প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারীও বটে। সম্প্রতি দুই দেশ বাংলাদেশে একটি ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনের চুক্তি করেছে। বেইজিং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির একক বৃহত্তম বাজার এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে তারা শীর্ষে আছে। জাতীয় নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, তিনি নতুন সরকারের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ‘ঝুঁকিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।’ তার এ বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বেইজিংয়ে। ক্রিস্টেনসেন ইঙ্গিত দেন, ওয়াশিংটন সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যে ‘সুযোগ-সুবিধা’ অফার করে থাকে, তার ওপর জোর দেবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার যে বিনিয়োগবান্ধব, সে বিষয়ে তারেক রহমান সরকারের সুস্পষ্ট ইঙ্গিতের অপেক্ষায় আছেন তারা।

বাংলাদেশি অভিজাত শ্রেণির রাজনৈতিক ঝোঁক পশ্চিমের দিকে হলেও তারা জানেন যে, অবকাঠামো বিনিয়োগ মূলত এশিয়া থেকেই এসেছে। জাপান ও চীন সেতু, বন্দর ও রেলপথ নির্মাণে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বেইজিং নদীর পানি সঞ্চয় করে সেচ কাজে সহায়তার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। গত বছর ১৪৩টি চীনা কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে গেলেও তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেনি। চীনারা অপেক্ষায় আছে তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার। তিনি যদি ওয়াশিংটনকে ‘সুস্পষ্ট সংকেত’ দেন, তবে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে চীনা বিনিয়োগের জন্য তারেক রহমান বেইজিং সফরে যেতে হতে পারে।

তারেক রহমানের জন্য চ্যালেঞ্জগুলি তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার এবং বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আনার সুযোগ রয়েছে।