ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

তীব্র গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন ও শিল্প, সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা

চরম গ্যাস সংকটে নাকাল রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাত। বাসা-বাড়ি, সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানা—সবখানেই গ্যাসের জন্য তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে শুরু হওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দিনে দিনে আরও প্রকট রূপ নিয়েছে, যা জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

রাজধানীর নতুন বাজার, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের বাসিন্দারা গ্যাস না পেয়ে দৈনন্দিন রান্নার জন্য রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, সিএনজিচালিত প্রাইভেটকার চালকরা গ্যাস পাম্পে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

সংকট শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নেই; নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদীর মতো শিল্পপ্রধান এলাকাগুলোতেও বাসাবাড়ি ও কারখানায় তীব্র গ্যাসের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে সাভার ও গাজীপুরের শিল্প-কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই চরম ভোগান্তির মাঝেই নতুন সংকট তৈরি হয়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতে। কমিশন বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি পেট্রোবাংলার সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো সুরাহা হয়নি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ-এর একটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ কমে গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টিকে সাময়িক মনে করা হলেও কারিগরি ত্রুটি জটিল হওয়ায় সমস্যা সমাধানে বিলম্ব হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, শুরুতে দেশীয় বিশেষজ্ঞরা সমস্যা চিহ্নিত করতে পারেননি। পরে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সমস্যাটি শনাক্ত করে মেরামতের কাজ করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই সনদের আইনি বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য

তীব্র গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন ও শিল্প, সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০২:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চরম গ্যাস সংকটে নাকাল রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাত। বাসা-বাড়ি, সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানা—সবখানেই গ্যাসের জন্য তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে শুরু হওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দিনে দিনে আরও প্রকট রূপ নিয়েছে, যা জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

রাজধানীর নতুন বাজার, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের বাসিন্দারা গ্যাস না পেয়ে দৈনন্দিন রান্নার জন্য রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, সিএনজিচালিত প্রাইভেটকার চালকরা গ্যাস পাম্পে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

সংকট শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নেই; নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদীর মতো শিল্পপ্রধান এলাকাগুলোতেও বাসাবাড়ি ও কারখানায় তীব্র গ্যাসের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে সাভার ও গাজীপুরের শিল্প-কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই চরম ভোগান্তির মাঝেই নতুন সংকট তৈরি হয়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতে। কমিশন বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি পেট্রোবাংলার সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো সুরাহা হয়নি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ-এর একটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ কমে গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টিকে সাময়িক মনে করা হলেও কারিগরি ত্রুটি জটিল হওয়ায় সমস্যা সমাধানে বিলম্ব হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, শুরুতে দেশীয় বিশেষজ্ঞরা সমস্যা চিহ্নিত করতে পারেননি। পরে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সমস্যাটি শনাক্ত করে মেরামতের কাজ করছেন।