ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সীতাকুণ্ডে গণপিটুনিতে নিহত মাদক কারবারি, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নুরুল ইসলাম ইরান (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একইসাথে তার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ইরান কিশোর নাঈম (১৬) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন এবং স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মাদক কারবার ও বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোর নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জের ধরে রাত দেড়টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ ইরানকে ঘিরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে দক্ষিণ ভাটেরখীল এলাকার ভূঁইয়ার দোকান সংলগ্ন ইরানের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ জুলাই রাতে, যখন নাঈমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, ইয়াবা হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে নির্যাতন ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরিবারের সদস্যরা নাঈমকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, তবে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় নাঈমের বাবা মো. খোকন বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয়ভাবে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ইরান ও তার সহযোগীরা ইয়াবা হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাঈমকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে।

মুরাদপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য এজাহার জানান, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল, যা শেষ পর্যন্ত গণপিটুনির মতো সহিংস ঘটনার জন্ম দেয়। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, ইরান নাঈম ও শামীম হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। নাঈম হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আলতাফ হোসেন নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই সনদের আইনি বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য

সীতাকুণ্ডে গণপিটুনিতে নিহত মাদক কারবারি, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

আপডেট সময় : ০২:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নুরুল ইসলাম ইরান (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একইসাথে তার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ইরান কিশোর নাঈম (১৬) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন এবং স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মাদক কারবার ও বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোর নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জের ধরে রাত দেড়টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ ইরানকে ঘিরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে দক্ষিণ ভাটেরখীল এলাকার ভূঁইয়ার দোকান সংলগ্ন ইরানের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ জুলাই রাতে, যখন নাঈমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, ইয়াবা হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে নির্যাতন ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরিবারের সদস্যরা নাঈমকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, তবে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় নাঈমের বাবা মো. খোকন বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয়ভাবে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ইরান ও তার সহযোগীরা ইয়াবা হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাঈমকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে।

মুরাদপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য এজাহার জানান, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল, যা শেষ পর্যন্ত গণপিটুনির মতো সহিংস ঘটনার জন্ম দেয়। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, ইরান নাঈম ও শামীম হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। নাঈম হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আলতাফ হোসেন নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।