ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চার দশক ধরে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান: কুমিল্লার তাহেরা জুনাব আলী বালিকা বিদ্যালয়ে আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রয়োজনীয় আধুনিক শৌচাগার, লাইব্রেরি ও বেঞ্চের অভাবেও তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের এমন নাজুক অবস্থায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী জুনাব আলীর উদ্যোগে ১৯৮৭ সালে এক একর জায়গার ওপর মোকাম ইউনিয়নের নিমসার বাজারে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুটি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠাতা জুনাব আলী এবং অন্যটি ফ্যাসিলিটিস বিভাগ থেকে তৈরি করা হয়েছিল। তবে উভয় ভবনের অবস্থাই অত্যন্ত নাজুক; যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে, ফলে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। দীর্ঘকাল সংস্কারের অভাবে পাকা ভবনের পলেস্তারা উঠে গেছে এবং ছাদের রডগুলো বেরিয়ে কঙ্কালের মতো দেখাচ্ছে। দরজা-জানালার অবস্থাও শোচনীয়।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক এবং চারজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কর্মরত আছেন। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজশ্রী পাল জানায়, বর্ষার সময় তারা ভীষণ আতঙ্কে থাকে এবং ঝড়বৃষ্টিতে বইখাতা ভিজে যায়। সে সরকারের কাছে একটি নতুন ভবন নির্মাণের অনুরোধ জানিয়েছে। অষ্টম শ্রেণির সামিয়া আক্তারও ক্লাসরুমের ফাটল ও উন্মুক্ত রড দেখে ভয়ের কথা জানায় এবং চারতলা ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠাতা জুনাব আলীর মেয়ে শাহিনা আক্তার জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের সব ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় ছাত্রীদের পাঠদানে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। তিনি একটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যমান ভবনগুলো সংস্কারের জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার ন্যায়বিচারের স্বার্থে জরুরি: ডা. শফিকুর রহমান

চার দশক ধরে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান: কুমিল্লার তাহেরা জুনাব আলী বালিকা বিদ্যালয়ে আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রয়োজনীয় আধুনিক শৌচাগার, লাইব্রেরি ও বেঞ্চের অভাবেও তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের এমন নাজুক অবস্থায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী জুনাব আলীর উদ্যোগে ১৯৮৭ সালে এক একর জায়গার ওপর মোকাম ইউনিয়নের নিমসার বাজারে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুটি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠাতা জুনাব আলী এবং অন্যটি ফ্যাসিলিটিস বিভাগ থেকে তৈরি করা হয়েছিল। তবে উভয় ভবনের অবস্থাই অত্যন্ত নাজুক; যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে, ফলে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। দীর্ঘকাল সংস্কারের অভাবে পাকা ভবনের পলেস্তারা উঠে গেছে এবং ছাদের রডগুলো বেরিয়ে কঙ্কালের মতো দেখাচ্ছে। দরজা-জানালার অবস্থাও শোচনীয়।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক এবং চারজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কর্মরত আছেন। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজশ্রী পাল জানায়, বর্ষার সময় তারা ভীষণ আতঙ্কে থাকে এবং ঝড়বৃষ্টিতে বইখাতা ভিজে যায়। সে সরকারের কাছে একটি নতুন ভবন নির্মাণের অনুরোধ জানিয়েছে। অষ্টম শ্রেণির সামিয়া আক্তারও ক্লাসরুমের ফাটল ও উন্মুক্ত রড দেখে ভয়ের কথা জানায় এবং চারতলা ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠাতা জুনাব আলীর মেয়ে শাহিনা আক্তার জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের সব ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় ছাত্রীদের পাঠদানে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। তিনি একটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যমান ভবনগুলো সংস্কারের জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।