## চতুর্থ তারাবি: আল্লাহর অবাধ্যতার পরিণাম ও ঈমানী দায়িত্ব
ঢাকা: পবিত্র রমজান মাসের চতুর্থ তারাবিহতে মুসলিম উম্মাহ সূরা নিসার ৮৮ থেকে ১৪৬ নম্বর আয়াত এবং সূরা মায়িদার ১ থেকে ৮২ নম্বর আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করবে। এই অংশটি কোরআনুল কারিমের পঞ্চম পারার শেষাংশ এবং পুরো ষষ্ঠ পারা জুড়ে বিস্তৃত। আজকের তিলাওয়াতকৃত আয়াতগুলো মানব জীবনের বিভিন্ন দিক, যেমন – ঈমান, আমল, সমাজ, রাষ্ট্রনীতি এবং পূর্ববর্তী উম্মতদের ঘটনাবলী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে।
সূরা নিসা: মোনাফেকদের ষড়যন্ত্র, জিহাদের গুরুত্ব এবং নারীর অধিকার
সূরা নিসার আজকের অংশে মোনাফেকদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। কোরআন তাদের গোপন ষড়যন্ত্র উন্মোচন করে তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা ঘোষণা করেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করার শাস্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে জিহাদের গুরুত্ব ও মুজাহিদদের ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। জিহাদকে মুসলিম জাতির সম্মান ও সৌভাগ্যের সোপান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা উম্মতকে লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা থেকে রক্ষা করে। জিহাদের পাশাপাশি হিজরতের আলোচনা এসেছে, যা জিহাদেরই একটি রূপ।
যারা আত্মপ্রবঞ্চনায় ভুগছে এবং জিহাদ ও হিজরতে অংশগ্রহণ করছে না, তাদের প্রতি সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। তবে যারা দুর্বল এবং কোনো পথ খোলা নেই, তাদের জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। সফর অবস্থায় নামাজ এবং যুদ্ধের ময়দানে নামাজ আদায়ের বিধান আলোচিত হয়েছে, যেখানে সময়মতো নামাজ আদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। খেয়ানতকারীদের পক্ষ অবলম্বন করতে নিষেধ করা হয়েছে।
আল্লাহর কাছে ঘোরতর অপরাধ হিসেবে কুফর ও শিরকের উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর ক্ষমার কোনো সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে। সূরায় দ্বিতীয়বার নারীদের আলোচনা এসেছে, যেখানে তাদের প্রতি জুলুম এবং অধিকার হরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ দেখা দিলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে ‘সুলাহ’ বা সন্ধির মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম পারার শেষ অংশে ফের মোনাফেকদের ভর্ৎসনা করা হয়েছে এবং তাদের কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী আয়াতগুলোতে ইহুদিদের অপরাধের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তাদের কুফরি ও ভ্রষ্টতার ক্ষেত্রে অগ্রগামী থাকার কথা বলা হয়েছে। ইহুদিদের জঘন্য অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ঈসা (আ.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাঁকে রক্ষা করেছেন এবং সম্মানের সঙ্গে আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন। সূরা নিসার শেষাংশে নারীদের অধিকার এবং তাদের মিরাস প্রদানে যত্নবান হওয়ার বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সূরা মায়িদাহ: অঙ্গীকার রক্ষা, ভ্রষ্টতা ও আল্লাহর পথে অবিচল থাকার নির্দেশ
‘মায়িদাহ’ বা দস্তরখান সম্পর্কিত একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। সূরার শুরুতে মোমিনদের প্রত্যেক বৈধ অঙ্গীকার ও চুক্তি পূর্ণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। জাহেলি যুগে যা কিছু অবাধে ভক্ষণ করা হতো, ইসলাম সেগুলোর অনেক কিছুকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
সূরার তৃতীয় রুকুতে ইহুদিদের হঠকারিতা, অবাধ্যতা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ফেতনা-ফ্যাসাদের বিবরণ এসেছে। তাদের এসব দুশ্চরিত্রের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে যেন মুসলিমরা এসব থেকে দূরে থাকে। চতুর্থ রুকুতে ইহুদিদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুসা (আ.) তাদের পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের নির্দেশ দেন, কিন্তু তারা তাঁর সঙ্গে তামাশা শুরু করে।
ষষ্ঠ ও সপ্তম রুকুতে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তাদের তাওরাত ও ইঞ্জিল দান করা হলেও তারা কিতাবের ফয়সালা মানেনি। অষ্টম ও নবম রুকুতে ইহুদি-খ্রিস্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ তারা পরস্পর পরস্পরের সহযোগী। দশম রুকুতে এক আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যারা ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র মনে করে, তাদের দাবীর অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে। ষষ্ঠ পারার সর্বশেষ রুকুতে ইহুদি জাতি অভিশপ্ত হওয়ার কারণ হিসেবে আল্লাহর অবাধ্যতা, সীমালঙ্ঘন এবং পরস্পরকে গর্হিত কাজ থেকে নিষেধ না করার বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে।
এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর পথে অবিচল থাকতে, অঙ্গীকার রক্ষা করতে, ভ্রষ্টতা থেকে দূরে থাকতে এবং সমাজের সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























