মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্রিফিংয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায়ের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কোনো আন্দোলন বরদাশত করা হবে না। এমন পরিস্থিতি কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব মহাপরিচালক এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। জনগণের ওপর জুলুম করা বা তাদের জিম্মি করে কোনো ধরনের কার্যক্রম আমরা হতে দেবো না।
গত দেড় বছরে, বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা ভঙ্গুর থাকলেও, গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে জাতিকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছি। এখন দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে আরও উন্নত হবে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমরা সফল হবো।
একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে নেওয়া কঠোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে র্যাব ডিজি জানান, ২০ ফেব্রুয়ারি রাত থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহীদ মিনার ও জনসমাগমস্থলে জোরদার টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং শুরু হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ উপলক্ষে সেখানে ইনার ও আউটার পেরিমিটার গড়ে বহুস্তর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অবজারভেশন পোস্ট, অস্থায়ী ওয়াচ টাওয়ার ও চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সিসিটিভি ও আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড আগাম সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং স্পেশাল ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন যাতে শহীদ মিনার এলাকায় প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রয়েছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিবিড় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণা ছড়িয়ে কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে। র্যাব সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম চালু রেখে সারাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। তিনি গণমাধ্যম ও দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। দেশের মানুষকে নিরাপদ ও স্বস্তির পরিবেশ উপহার দিতে আমরা সর্বোচ্চ সজাগ আছি।
রিপোর্টারের নাম 

























