টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের আরও প্রায় ৪২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। সম্প্রতি হালনাগাদকৃত সরকারের এসডিজি অর্থায়ন কৌশলের পর্যালোচনায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়ন বিষয়ক জাতীয় ভ্যালিডেশন কর্মশালায়’ এ তথ্য জানানো হয়। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্মশালাটির আয়োজন করে।
কর্মশালায় ডিএফএ শীর্ষক প্রতিবেদনের ফলাফল পর্যালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের হালনাগাদকৃত এসডিজি অর্থায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ডিএফএ একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্লেষণ কাঠামো, যা জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে অর্থায়ন নীতি, প্রতিষ্ঠান এবং আর্থিক প্রবাহের কার্যকর সমন্বয়ে সহায়তা করে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “এসডিজি বাস্তবায়নের অবশিষ্ট সময়টি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। একদিকে অর্থায়নের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে, অন্যদিকে সময় সীমিত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। তবে আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থবহ অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হবে।” তিনি আরও বলেন, “এখন আমাদের প্রয়োজন সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন।”
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক বলেন, “বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব উৎস থেকে এসডিজি বাস্তবায়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
কর্মশালার সভাপতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ. এইচ. এম. জাহাঙ্গীর বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকালীন এই সময়ে একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক অর্থায়ন পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 



















