স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষা বাধাগ্রস্ত হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকারের বিরোধিতা হিসেবে গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রচেষ্টাগুলোকে গণ্য করতে শুরু করে। জাসদ ও সর্বহারা পার্টির মতো সংগঠনগুলোকে দমন করা হয় এবং রক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে, যা দলীয় সরকারের চেহারা প্রকট করে তোলে এবং দেশব্যাপী অরাজকতা, দুর্নীতি ও দুর্ভিক্ষের জন্ম দেয়। পরবর্তীতে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়।
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিতে গিয়ে এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফ্যাসিজম গভীরভাবে প্রোথিত। স্বাধীন দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের অনুসারী এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের গতিপথ বদলে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রবণতা শুরু হয়। মেজর এম এ জলিলকে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিয়ে আটক করা হয় এবং মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়। সরকারি বাহিনী সিরাজ সিকদারকে হত্যা করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্য তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চরিত্র ছিল ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং বিরোধী মত দমনে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনকে ব্যবহার করা হতো।
রিপোর্টারের নাম 






















