ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ফৌজদারি অপরাধের দণ্ড নির্ধারণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দণ্ড নির্ধারণে যৌক্তিকতা আনয়নের লক্ষ্যে ‘ফৌজদারি অপরাধের দণ্ড নিরূপণ (নীতি ও পদ্ধতি) আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আইন কমিশন। এই লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া বিল নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

রোববার দুপুরে রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি জিনাত আরা প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সমাজে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা। অপরাধের ধরণ, প্রকৃতি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় দণ্ড নির্ধারণে একটি সুস্পষ্ট নীতি ও পদ্ধতি থাকা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যেই নতুন আইন প্রণয়নের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিচারপতি জিনাত আরা আরও বলেন, দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, সামঞ্জস্য ও যৌক্তিকতা নিশ্চিত করতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন সময়ের দাবি। এ কারণে বিচারক, আইনজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং খসড়া আইনের উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা সুপারিশ তুলে ধরেন।

আইন কমিশনের সচিব সৈয়দ আজাদ সুবহানির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে জেলার বিচারক, আইনজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিও প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেমিনারে প্রাপ্ত মতামতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে খসড়া আইনে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও সংশোধন আনা হবে। এরপর চূড়ান্ত খসড়া সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর হলে ফৌজদারি মামলায় দণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে উঠবে, যা বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা আরও বৃদ্ধি করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরা হলো না; বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর

ফৌজদারি অপরাধের দণ্ড নির্ধারণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১১:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দণ্ড নির্ধারণে যৌক্তিকতা আনয়নের লক্ষ্যে ‘ফৌজদারি অপরাধের দণ্ড নিরূপণ (নীতি ও পদ্ধতি) আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আইন কমিশন। এই লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া বিল নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

রোববার দুপুরে রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি জিনাত আরা প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সমাজে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা। অপরাধের ধরণ, প্রকৃতি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় দণ্ড নির্ধারণে একটি সুস্পষ্ট নীতি ও পদ্ধতি থাকা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যেই নতুন আইন প্রণয়নের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিচারপতি জিনাত আরা আরও বলেন, দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, সামঞ্জস্য ও যৌক্তিকতা নিশ্চিত করতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন সময়ের দাবি। এ কারণে বিচারক, আইনজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং খসড়া আইনের উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা সুপারিশ তুলে ধরেন।

আইন কমিশনের সচিব সৈয়দ আজাদ সুবহানির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে জেলার বিচারক, আইনজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিও প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেমিনারে প্রাপ্ত মতামতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে খসড়া আইনে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও সংশোধন আনা হবে। এরপর চূড়ান্ত খসড়া সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর হলে ফৌজদারি মামলায় দণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে উঠবে, যা বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা আরও বৃদ্ধি করবে।