ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার, সমন্বিত উদ্যোগে জোর: মন্ত্রী আমিন উর রশীদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে কৃষি খাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। শুক্রবার কুমিল্লা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই কৃষি খাতের উন্নয়ন দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আর্থিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা রাখে যে, সরকার দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে, বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকদের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পিএইচ মাত্রা, সার ব্যবহারের দক্ষতা ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাটির সঠিক পিএইচ মাত্রা নিশ্চিত করা গেলে সারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং উৎপাদন ব্যয় কমবে। এ বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদানে কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর তিনি জোর দেন।

নিজের দীর্ঘদিনের কৃষি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি শপথ নিলেও তিনি একজন কৃষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। ফলে কৃষির বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার গভীর ধারণা রয়েছে। তিনি জানান, পূর্বে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতগুলো পৃথকভাবে পরিচালিত হওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনায় সমন্বয়ের অভাব ছিল। বর্তমান সরকার এসব সংশ্লিষ্ট খাতকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা সরকারের সর্বশেষ নীতিগত নির্দেশনার অংশ।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ নির্দিষ্ট হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকেন। তাই টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে এবং এর সুফল দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, তার দায়িত্বকালে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ করা তার অগ্রাধিকার। গোমতী নদী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে এবং এক ফোঁটা মাটিও অবৈধভাবে কাটতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৈয়দ মুজতবা আলী: প্রজ্ঞার প্রমাদ ও সমাজের দায়

কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার, সমন্বিত উদ্যোগে জোর: মন্ত্রী আমিন উর রশীদ

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে কৃষি খাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। শুক্রবার কুমিল্লা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই কৃষি খাতের উন্নয়ন দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আর্থিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা রাখে যে, সরকার দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে, বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকদের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পিএইচ মাত্রা, সার ব্যবহারের দক্ষতা ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাটির সঠিক পিএইচ মাত্রা নিশ্চিত করা গেলে সারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং উৎপাদন ব্যয় কমবে। এ বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদানে কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর তিনি জোর দেন।

নিজের দীর্ঘদিনের কৃষি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি শপথ নিলেও তিনি একজন কৃষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। ফলে কৃষির বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার গভীর ধারণা রয়েছে। তিনি জানান, পূর্বে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতগুলো পৃথকভাবে পরিচালিত হওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনায় সমন্বয়ের অভাব ছিল। বর্তমান সরকার এসব সংশ্লিষ্ট খাতকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা সরকারের সর্বশেষ নীতিগত নির্দেশনার অংশ।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ নির্দিষ্ট হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকেন। তাই টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে এবং এর সুফল দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, তার দায়িত্বকালে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ করা তার অগ্রাধিকার। গোমতী নদী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে এবং এক ফোঁটা মাটিও অবৈধভাবে কাটতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।