ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গবেষণায় বিশ্বমঞ্চে নোবিপ্রবি, ৩৩৪ কোটির উন্নয়ন প্রকল্পসহ নানা উদ্যোগের কথা জানালেন উপাচার্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাম্প্রতিক একাডেমিক অগ্রগতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

মতবিনিময় সভায় উপাচার্য জানান, নোবিপ্রবি বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গবেষণার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং সংস্থা ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’-এর সর্বশেষ মূল্যায়নে গবেষণা সূচকে নোবিপ্রবি বিশ্বের ৭২২তম এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১২তম স্থান অর্জন করেছে। গবেষণায় উৎসাহ দিতে ‘বেস্ট ফিমেল রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন করা হয়েছে এবং গত দেড় বছরে বিশ্বের খ্যাতনামা ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ৩৩৪ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এই প্রকল্পের আওতায় নতুন একাডেমিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হবে। উপাচার্য বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৩০টি শ্রেণিকক্ষকে ডিজিটাল করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ‘স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে উপাচার্য কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে চার স্তরের যাচাই প্রক্রিয়া (একাডেমিক যোগ্যতা, লিখিত পরীক্ষা, উপস্থাপনা ও মৌখিক পরীক্ষা) অনুসরণ করা হচ্ছে। মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের সুযোগ করে দিতে এবং সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত কর্মশালা ও মেডিকেল সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আবাসিক হলগুলোতে আধুনিক জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে গ্যাস সংযোগ, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ভেন্ডিং মেশিন ও লন্ড্রিসহ সুপারশপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল ছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও সুনাম বৃদ্ধিতে উপাচার্য গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: এনজিও ঋণের জট নিয়ে চাঞ্চল্য

গবেষণায় বিশ্বমঞ্চে নোবিপ্রবি, ৩৩৪ কোটির উন্নয়ন প্রকল্পসহ নানা উদ্যোগের কথা জানালেন উপাচার্য

আপডেট সময় : ১২:০৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাম্প্রতিক একাডেমিক অগ্রগতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

মতবিনিময় সভায় উপাচার্য জানান, নোবিপ্রবি বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গবেষণার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং সংস্থা ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’-এর সর্বশেষ মূল্যায়নে গবেষণা সূচকে নোবিপ্রবি বিশ্বের ৭২২তম এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১২তম স্থান অর্জন করেছে। গবেষণায় উৎসাহ দিতে ‘বেস্ট ফিমেল রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন করা হয়েছে এবং গত দেড় বছরে বিশ্বের খ্যাতনামা ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ৩৩৪ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এই প্রকল্পের আওতায় নতুন একাডেমিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হবে। উপাচার্য বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৩০টি শ্রেণিকক্ষকে ডিজিটাল করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ‘স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে উপাচার্য কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে চার স্তরের যাচাই প্রক্রিয়া (একাডেমিক যোগ্যতা, লিখিত পরীক্ষা, উপস্থাপনা ও মৌখিক পরীক্ষা) অনুসরণ করা হচ্ছে। মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের সুযোগ করে দিতে এবং সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত কর্মশালা ও মেডিকেল সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আবাসিক হলগুলোতে আধুনিক জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে গ্যাস সংযোগ, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ভেন্ডিং মেশিন ও লন্ড্রিসহ সুপারশপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল ছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও সুনাম বৃদ্ধিতে উপাচার্য গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।