ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৬ বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে বেরোবিতে ফের সচল ২ মেগা প্রকল্প

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ছয় বছরের অনিশ্চয়তা ও দুর্নীতির কালো ছায়া কাটিয়ে অবশেষে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুটি মেগা প্রকল্পের নির্মাণস্থল। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্য ড. মো: শওকাত আলী আনুষ্ঠানিকভাবে দশতলা বিশিষ্ট ছাত্রী হল ও ‘ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স’ ভবনের কাজ পুনরায় উদ্বোধনের মাধ্যমে এই স্থবিরতার অবসান ঘটান। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও আবাসন সংকট নিরসনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক তিনটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। এই প্রকল্পগুলো ছিল দশতলাবিশিষ্ট ছাত্রী হল, ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স ভবন এবং স্বাধীনতা স্মারক। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজে গতি আনা এবং আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যেই এই মেগা প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হয়েছিল।

তবে, পরবর্তীতে প্রকল্পের নকশা ও পরামর্শক পরিবর্তন এবং নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর আবেদন জানানো হলে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়, যা দীর্ঘ ছয় বছর ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপাচার্য ড. একেএম নূর-উন নবীর সময়ে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগোচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তী উপাচার্য প্রফেসর ড. মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও-এর সময়ে নির্মাণাধীন দুটি ভবনের নকশা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তি বরাদ্দের আবেদন করা হয়। ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স ভবনের নির্মাণ ব্যয় ২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, ছাত্রী হলের বরাদ্দ ৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণ ব্যয় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। এই অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবই দুর্নীতির অভিযোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা নিরসনে বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অনিয়মের কারণে প্রকল্পটি স্থগিত করে দিয়েছিল এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি মামলাও চলমান রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নির্মাণ কাজ স্থবির থাকা দশতলা বিশিষ্ট মেয়েদের হল এবং দশতলা বিশিষ্ট ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স-এই দুই ভবনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদুল মাহমুদ এবং শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা হয়। তাঁরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে কাজটি পুনরায় চালুর নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেন এবং ইতোমধ্যে যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেটিকে কিভাবে ব্যবহারোপযোগী করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্য ড. মো: শওকাত আলী যখন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর ঘোষণা দেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, সাংবাদিকবৃন্দ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও স্বাধীনতা স্মারক প্রকল্পের কাজ আপাতত শুরু হচ্ছে না, তবে এই দুটি বৃহৎ প্রকল্পের কাজ ফের চালু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভবনগুলোর নামকরণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হবে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন মহল থেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নামে ছাত্রী হলের নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

৬ বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে বেরোবিতে ফের সচল ২ মেগা প্রকল্প

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ছয় বছরের অনিশ্চয়তা ও দুর্নীতির কালো ছায়া কাটিয়ে অবশেষে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুটি মেগা প্রকল্পের নির্মাণস্থল। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্য ড. মো: শওকাত আলী আনুষ্ঠানিকভাবে দশতলা বিশিষ্ট ছাত্রী হল ও ‘ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স’ ভবনের কাজ পুনরায় উদ্বোধনের মাধ্যমে এই স্থবিরতার অবসান ঘটান। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও আবাসন সংকট নিরসনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক তিনটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। এই প্রকল্পগুলো ছিল দশতলাবিশিষ্ট ছাত্রী হল, ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স ভবন এবং স্বাধীনতা স্মারক। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজে গতি আনা এবং আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যেই এই মেগা প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হয়েছিল।

তবে, পরবর্তীতে প্রকল্পের নকশা ও পরামর্শক পরিবর্তন এবং নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর আবেদন জানানো হলে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়, যা দীর্ঘ ছয় বছর ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপাচার্য ড. একেএম নূর-উন নবীর সময়ে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগোচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তী উপাচার্য প্রফেসর ড. মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও-এর সময়ে নির্মাণাধীন দুটি ভবনের নকশা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তি বরাদ্দের আবেদন করা হয়। ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স ভবনের নির্মাণ ব্যয় ২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, ছাত্রী হলের বরাদ্দ ৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণ ব্যয় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। এই অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবই দুর্নীতির অভিযোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা নিরসনে বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অনিয়মের কারণে প্রকল্পটি স্থগিত করে দিয়েছিল এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি মামলাও চলমান রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নির্মাণ কাজ স্থবির থাকা দশতলা বিশিষ্ট মেয়েদের হল এবং দশতলা বিশিষ্ট ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স-এই দুই ভবনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদুল মাহমুদ এবং শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা হয়। তাঁরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে কাজটি পুনরায় চালুর নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেন এবং ইতোমধ্যে যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেটিকে কিভাবে ব্যবহারোপযোগী করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপাচার্য ড. মো: শওকাত আলী যখন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর ঘোষণা দেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, সাংবাদিকবৃন্দ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও স্বাধীনতা স্মারক প্রকল্পের কাজ আপাতত শুরু হচ্ছে না, তবে এই দুটি বৃহৎ প্রকল্পের কাজ ফের চালু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভবনগুলোর নামকরণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হবে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন মহল থেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নামে ছাত্রী হলের নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।