ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিশিখায় আত্মোৎসর্গকারী প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তৎকালীন প্রক্টর ড. সৈয়দ মুহম্মদ শামসুজ্জোহার ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘শিক্ষক দিবস’ পালিত হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ শামসুজ্জোহার আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শহীদ ড. শামসুজ্জোহার মাজারে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থিত জোহা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপাচার্য বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা শিক্ষক দিবসে শহীদ শামসুজ্জোহা স্যারের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। বিভিন্ন হল ও বিভাগ থেকে র্যালি বের হয়েছে। আমরা আশা করি, দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই দিবসটি যথাযথ গুরুত্ব সহকারে পালন করবে। সরকারও এই দিবসটিকে জাতীয়ভাবে পালনের জন্য আরও গুরুত্ব দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
শহীদ শামসুজ্জোহার স্মরণে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তাসীন খান বলেন, “১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। শহীদ শামসুজ্জোহার আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পথকে সুগম করেছিল। আজ আমরা যে স্বাধীন দেশের নাগরিক, তার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণে ড. জোহার আদর্শ ও নৈতিকতা আমাদের প্রধান পাথেয় হওয়া উচিত।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তাসীন সিদ্দিকা রুপা বলেন, “জোহা স্যারের চেতনাবোধ ছিল অসাধারণ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর মতো শিক্ষক আর পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। বর্তমানে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে, তা হতাশাজনক। জোহা স্যারের ত্যাগ আমাদের প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করলেও, আমরা তা কতটা ধারণ করতে পারছি, তা একটি বড় প্রশ্ন।”
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, “উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাদানকারী শহীদ শিক্ষক জোহা স্যার। স্বাধীন বাংলাদেশে সকল গণআন্দোলন ও অভ্যুত্থানে তাঁর আত্মত্যাগ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বাংলাদেশ সরকার এখনও ১৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেনি। এটি শহীদ জোহা স্যারের প্রতি এক ধরনের বৈষম্য। নতুন সরকারের কাছে আমাদের বিনীত আহ্বান, তারা যেন দ্রুত এই দিনটিকে শহীদ জোহা দিবস হিসেবে জাতীয়ভাবে ঘোষণা করে তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেন।”
রিপোর্টারের নাম 






















