ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ছয় কোটি ৩২ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ সরওয়ার জাহান ও সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারা দুজনে শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড) থেকে ছয় কোটি তিন লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ টাকা ও ইউনিভার্সিটির তহবিল থেকে ২৮ লাখ ৮ হাজার ৯৯০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

রবিবার (২ নভেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক আলমগীর হোসেন মামলাটি করেন। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ সরওয়ার জাহান অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ছয় কোটি তিন লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া তিনি ব্যাংক এশিয়ার অধীনে ‘এজেন্ট ব্যাংকিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করেও অর্জিত কমিশন ইউনিভার্সিটির হিসাবে জমা করেননি। বরং উক্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মচারী এস. এম. মুনিউল ইসলামকে ২০২১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন বাবদ ইউনিভার্সিটির তহবিল থেকে ৮৮ হাজার ৭৩৮ টাকা দিয়েছেন। যা আত্মসাৎ হিসেবে বিবেচিত। এভাবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

অপরদিকে, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির সাবেক রেজিস্ট্রার মো. মোজাম্মেল হক ও কোষাধ্যক্ষ সরওয়ার জাহান পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউনিভার্সিটির তহবিল থেকে আরও ২৮ লাখ আট হাজার ৯৯০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

দুদক জানায়, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির নামে ২০১০ সালের ৩০ জুন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রবর্তক শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়। যেখানে ২০২৪ সালের ২২ জুন পর্যন্ত ছয় কোটি তিন লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ টাকা জমা হয়। এই পুরো অর্থ বিভিন্ন সময়ে উত্তোলন করেন সরওয়ার জাহান। বর্তমানে ওই হিসাব শূন্য। তবে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তার কোনও রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষও এর কোনও বৈধ ব্যয়ের তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি। এসব কারণে দুজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট সময় : ১০:২৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

ছয় কোটি ৩২ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ সরওয়ার জাহান ও সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারা দুজনে শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড) থেকে ছয় কোটি তিন লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ টাকা ও ইউনিভার্সিটির তহবিল থেকে ২৮ লাখ ৮ হাজার ৯৯০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

রবিবার (২ নভেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক আলমগীর হোসেন মামলাটি করেন। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ সরওয়ার জাহান অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ছয় কোটি তিন লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া তিনি ব্যাংক এশিয়ার অধীনে ‘এজেন্ট ব্যাংকিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করেও অর্জিত কমিশন ইউনিভার্সিটির হিসাবে জমা করেননি। বরং উক্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মচারী এস. এম. মুনিউল ইসলামকে ২০২১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন বাবদ ইউনিভার্সিটির তহবিল থেকে ৮৮ হাজার ৭৩৮ টাকা দিয়েছেন। যা আত্মসাৎ হিসেবে বিবেচিত। এভাবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

অপরদিকে, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির সাবেক রেজিস্ট্রার মো. মোজাম্মেল হক ও কোষাধ্যক্ষ সরওয়ার জাহান পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউনিভার্সিটির তহবিল থেকে আরও ২৮ লাখ আট হাজার ৯৯০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

দুদক জানায়, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির নামে ২০১০ সালের ৩০ জুন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রবর্তক শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়। যেখানে ২০২৪ সালের ২২ জুন পর্যন্ত ছয় কোটি তিন লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ টাকা জমা হয়। এই পুরো অর্থ বিভিন্ন সময়ে উত্তোলন করেন সরওয়ার জাহান। বর্তমানে ওই হিসাব শূন্য। তবে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তার কোনও রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষও এর কোনও বৈধ ব্যয়ের তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি। এসব কারণে দুজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে।