ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বর্ষায় হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ: ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এক চরম দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে পারলেও বর্ষা নামলেই চারপাশ পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে শিশুদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে নৌকা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নৌকা সংগ্রহ, মেরামত বা মাঝি নিয়োগে দীর্ঘ সময় লেগে যায়, যা বর্ষার শুরুতেই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া অনিশ্চিত করে তোলে। এতে একদিকে যেমন পাঠদান ব্যাহত হয়, তেমনি কমে যায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

চলতি বছরও মধ্যনগর উপজেলার বলরামপুর, ফারুকনগর, বীরসিংহপাড়া, শালীয়ানীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয় চত্বর ও আশপাশের এলাকা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পানিতে তলিয়ে থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপারের উপযোগী নৌকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে বর্ষার শুরু থেকেই শিক্ষা কার্যক্রম আরো ব্যাহত হচ্ছে।

বীরসিংহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক শাহাবুল আলম জানান, প্রতিদিন বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় না এবং পারাপারের জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না। পানিতে ভিজে যাতায়াত করলে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক চাম্পা আক্তার বলেন, নৌকা না থাকায় শিশুরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না। ফলে উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, আর অন্য শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

বীরসিংহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, বিদ্যালয় চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের সহায়তায় আসছে। তবে শিক্ষার্থী পারাপারের জন্য সরকারি কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি। তাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্যোগেই নৌকা ও মাঝির ব্যবস্থা করতে হয়। অন্যদিকে বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমা রঞ্জন সরকার বলেন, দুই বছর আগে জেলা পরিষদ থেকে শিক্ষার্থী পারাপারের জন্য একটি নৌকা পেলেও সেটি মেরামতের জন্য শুকনায় তোলা হয়েছে। মাঝি নিয়োগের বিষয়েও অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে নৌকা পেলেও মাঝির বেতন সরকার দেয় না, তাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়েই সেই ব্যয় মেটাতে হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট: জনবান্ধব নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?

বর্ষায় হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ: ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এক চরম দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে পারলেও বর্ষা নামলেই চারপাশ পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে শিশুদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে নৌকা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নৌকা সংগ্রহ, মেরামত বা মাঝি নিয়োগে দীর্ঘ সময় লেগে যায়, যা বর্ষার শুরুতেই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া অনিশ্চিত করে তোলে। এতে একদিকে যেমন পাঠদান ব্যাহত হয়, তেমনি কমে যায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

চলতি বছরও মধ্যনগর উপজেলার বলরামপুর, ফারুকনগর, বীরসিংহপাড়া, শালীয়ানীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয় চত্বর ও আশপাশের এলাকা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পানিতে তলিয়ে থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপারের উপযোগী নৌকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে বর্ষার শুরু থেকেই শিক্ষা কার্যক্রম আরো ব্যাহত হচ্ছে।

বীরসিংহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক শাহাবুল আলম জানান, প্রতিদিন বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় না এবং পারাপারের জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না। পানিতে ভিজে যাতায়াত করলে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক চাম্পা আক্তার বলেন, নৌকা না থাকায় শিশুরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না। ফলে উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, আর অন্য শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

বীরসিংহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, বিদ্যালয় চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের সহায়তায় আসছে। তবে শিক্ষার্থী পারাপারের জন্য সরকারি কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি। তাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্যোগেই নৌকা ও মাঝির ব্যবস্থা করতে হয়। অন্যদিকে বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমা রঞ্জন সরকার বলেন, দুই বছর আগে জেলা পরিষদ থেকে শিক্ষার্থী পারাপারের জন্য একটি নৌকা পেলেও সেটি মেরামতের জন্য শুকনায় তোলা হয়েছে। মাঝি নিয়োগের বিষয়েও অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে নৌকা পেলেও মাঝির বেতন সরকার দেয় না, তাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়েই সেই ব্যয় মেটাতে হয়।