দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পাঁচজন নতুন মুখ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে জাতীয় সংসদে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছেন। জেলার মোট ১১টি আসনের মধ্যে আটটিতে বিএনপি, একটিতে জামায়াত, একটিতে এনসিপি এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এই বিজয়ীদের মধ্যে পাঁচজনই নতুন মুখ, যারা জাতীয় রাজনীতিতে তাদের পদচারণা শুরু করলেন। এদের মধ্যে তিনজন বিএনপির, একজন এনসিপির এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
নবনির্বাচিত এই পাঁচ সংসদ সদস্য হলেন—কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম এবং কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ এক অভাবনীয় বিজয় অর্জন করেছেন। তিনি ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে তিনগুণেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন। এই বিপুল ব্যবধান তার জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।
স্থানীয়দের মধ্যে কুমিল্লাকে বিভাগ করার প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। নতুন সংসদ সদস্যরা সংসদে এই প্রাণের দাবিটি কতটা জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।
কুমিল্লা-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সংসদে গিয়ে আমি আমার এলাকার উন্নয়নের জন্য কথা বলব। আমার নির্বাচনি এলাকার মানুষের যে প্রত্যাশা, তা পূরণে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব।”
একইভাবে, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন নির্বাচন পরবর্তী সময়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী, সমর্থক বা তাদের বাড়িঘরে যেন কোনো ধরনের আক্রমণ, হয়রানি বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা না হয়, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা সবাইকে শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছি। যদি কেউ এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। শান্তি, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”
কুমিল্লা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার বিশাল বিজয় সম্পর্কে বলেন, “আমি প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছি। যে প্রায় বিশ হাজার মানুষ আমাকে ভোট দেয়নি, তাদের মন জয় করে দেবিদ্বারের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমি মিশে থাকব, ইনশাআল্লাহ। আমি সমাজকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কারো প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না।”
—
রিপোর্টারের নাম 





















