ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

পর্যটন ব্যবসায় ধস নামার আশঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

## কুয়াকাটায় পর্যটকের খরা: ভালোবাসা দিবসেও জনশূন্য সৈকত, ব্যবসায়ীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

পটুয়াখালী: বছরের এই সময়টা কুয়াকাটার জন্য বরাবরই উৎসবমুখর। ফাগুনের আগমনে আর ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে দেশের অন্যতম দীর্ঘ এই সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখরিত থাকে। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে পর্যটন মৌসুমের প্রাণস্পন্দন যেন উধাও। ভালোবাসা দিবসের মতো বিশেষ দিনেও ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত ছিল প্রায় পর্যটকশূন্য, যা স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।

সাধারণত, ফাল্গুনের শুরুতেই কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট, গঙ্গামতি, লেম্বুরবন এবং শুঁটকি মার্কেট পর্যটকদের আনাগোনায় সরগরম হয়ে ওঠে। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। অধিকাংশ পর্যটন স্পটেই দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। যে হাতে গোনা কয়েকজন পর্যটক এসেছেন, তারা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগে মগ্ন। তবে, ক্রেতা না থাকায় জিরো পয়েন্ট এলাকার দোকানদারদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এই বছর ভালোবাসা দিবসে পর্যটকদের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে এই স্থবিরতা বিরাজ করছে, যার ফলে পর্যটননির্ভর প্রায় ১৬টি পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হোটেল সি-ক্রাউনের পরিচালক মামুন খান জানান, ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে তারা বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, কিন্তু প্রত্যাশিত পর্যটক না আসায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের হোটেল প্রায় ফাঁকা। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, তাদের ৭০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গাইড গত এক সপ্তাহ ধরে বেকার সময় কাটাচ্ছেন। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার প্রেসিডেন্ট ও প্রেস ক্লাব সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে কুয়াকাটার পর্যটন খাত সরাসরি জড়িত। চলমান নির্বাচন এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক মিলছে না। মৌসুমের শুরুতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করলেও এখন অধিকাংশ ব্যবসায়ীর মাথায় হাত। এতে সরকারেরও বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, পর্যটকের সংখ্যা কম হলেও তারা প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে টহল দিচ্ছেন এবং আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

প্রতি বছর ফাগুন ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে যে কুয়াকাটা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর থাকে, সেখানে এ বছর নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, আগামী ঈদ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই পরিস্থিতিতে পর্যটননির্ভর এ জনপদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

পর্যটন ব্যবসায় ধস নামার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## কুয়াকাটায় পর্যটকের খরা: ভালোবাসা দিবসেও জনশূন্য সৈকত, ব্যবসায়ীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

পটুয়াখালী: বছরের এই সময়টা কুয়াকাটার জন্য বরাবরই উৎসবমুখর। ফাগুনের আগমনে আর ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে দেশের অন্যতম দীর্ঘ এই সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখরিত থাকে। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে পর্যটন মৌসুমের প্রাণস্পন্দন যেন উধাও। ভালোবাসা দিবসের মতো বিশেষ দিনেও ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত ছিল প্রায় পর্যটকশূন্য, যা স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।

সাধারণত, ফাল্গুনের শুরুতেই কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট, গঙ্গামতি, লেম্বুরবন এবং শুঁটকি মার্কেট পর্যটকদের আনাগোনায় সরগরম হয়ে ওঠে। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। অধিকাংশ পর্যটন স্পটেই দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। যে হাতে গোনা কয়েকজন পর্যটক এসেছেন, তারা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগে মগ্ন। তবে, ক্রেতা না থাকায় জিরো পয়েন্ট এলাকার দোকানদারদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এই বছর ভালোবাসা দিবসে পর্যটকদের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে এই স্থবিরতা বিরাজ করছে, যার ফলে পর্যটননির্ভর প্রায় ১৬টি পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হোটেল সি-ক্রাউনের পরিচালক মামুন খান জানান, ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে তারা বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, কিন্তু প্রত্যাশিত পর্যটক না আসায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের হোটেল প্রায় ফাঁকা। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, তাদের ৭০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গাইড গত এক সপ্তাহ ধরে বেকার সময় কাটাচ্ছেন। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার প্রেসিডেন্ট ও প্রেস ক্লাব সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে কুয়াকাটার পর্যটন খাত সরাসরি জড়িত। চলমান নির্বাচন এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক মিলছে না। মৌসুমের শুরুতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করলেও এখন অধিকাংশ ব্যবসায়ীর মাথায় হাত। এতে সরকারেরও বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, পর্যটকের সংখ্যা কম হলেও তারা প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে টহল দিচ্ছেন এবং আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

প্রতি বছর ফাগুন ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে যে কুয়াকাটা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর থাকে, সেখানে এ বছর নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, আগামী ঈদ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই পরিস্থিতিতে পর্যটননির্ভর এ জনপদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।