ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংঘাত: উপাচার্য-প্রক্টরসহ আহত ৮, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শিক্ষকদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উপাচার্য অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহাম্মদসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং প্রশাসনিক পদে রদবদল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর নতুন কমিটি গত বছরের ডিসেম্বরে গঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে কমিটি গঠনে বিলম্ব হওয়ায় দলের ভেতরে বিভেদ দেখা দেয়। এই বিভেদই সাম্প্রতিক সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রোববার সাদা দলের বর্তমান কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কাজী মেহতাজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহানা বেগমের নেতৃত্বে সাতজন শিক্ষক উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা উপাচার্যকে ‘জামায়াতপন্থী’ আখ্যা দিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং একটি গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন। এ সময় উপাচার্য ও তার নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা দিতে গেলে তারা লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে প্রক্টর অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহাম্মদ, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদারসহ সাদা দলের অন্য শিক্ষকরা উপাচার্যের কার্যালয়ে ছুটে আসেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় সাদা দলের সভাপতি কাজী মেহেতাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শাহানা বেগমের নেতৃত্বে অধ্যাপক এমদাদুল হক, অধ্যাপক মোজাম্মেল হক এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ আতাউর রহমান তাদের ওপর চড়াও হন। হাতাহাতির একপর্যায়ে প্রক্টর জসিম উদ্দিন আহাম্মদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হন।

তবে এ ঘটনার বিষয়ে অধ্যাপক মোজাম্মেল হক ভিন্ন অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গেলে উপাচার্য ও প্রক্টরের অনুসারীরা আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমার নাক ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে।’

অন্যদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম পুরো ঘটনাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের কয়েকজন পূর্বে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং সেসব পদ ফিরে পাওয়ার উদ্দেশ্যে বর্তমান পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। উপাচার্য আরও বলেন, ‘দুর্দিনে আমি বিএনপিপন্থী প্যানেল থেকে নির্বাচন করে শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলাম। আজ সাদা দলের নামধারী কিছু শিক্ষক যেভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংঘাত: উপাচার্য-প্রক্টরসহ আহত ৮, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৪:০৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শিক্ষকদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উপাচার্য অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহাম্মদসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং প্রশাসনিক পদে রদবদল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর নতুন কমিটি গত বছরের ডিসেম্বরে গঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে কমিটি গঠনে বিলম্ব হওয়ায় দলের ভেতরে বিভেদ দেখা দেয়। এই বিভেদই সাম্প্রতিক সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রোববার সাদা দলের বর্তমান কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কাজী মেহতাজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহানা বেগমের নেতৃত্বে সাতজন শিক্ষক উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা উপাচার্যকে ‘জামায়াতপন্থী’ আখ্যা দিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং একটি গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন। এ সময় উপাচার্য ও তার নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা দিতে গেলে তারা লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে প্রক্টর অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহাম্মদ, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদারসহ সাদা দলের অন্য শিক্ষকরা উপাচার্যের কার্যালয়ে ছুটে আসেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় সাদা দলের সভাপতি কাজী মেহেতাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শাহানা বেগমের নেতৃত্বে অধ্যাপক এমদাদুল হক, অধ্যাপক মোজাম্মেল হক এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ আতাউর রহমান তাদের ওপর চড়াও হন। হাতাহাতির একপর্যায়ে প্রক্টর জসিম উদ্দিন আহাম্মদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হন।

তবে এ ঘটনার বিষয়ে অধ্যাপক মোজাম্মেল হক ভিন্ন অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গেলে উপাচার্য ও প্রক্টরের অনুসারীরা আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমার নাক ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে।’

অন্যদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম পুরো ঘটনাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের কয়েকজন পূর্বে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং সেসব পদ ফিরে পাওয়ার উদ্দেশ্যে বর্তমান পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। উপাচার্য আরও বলেন, ‘দুর্দিনে আমি বিএনপিপন্থী প্যানেল থেকে নির্বাচন করে শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলাম। আজ সাদা দলের নামধারী কিছু শিক্ষক যেভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’