ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনের পরপরই বাঁকখালীর তীর দখলের মহোৎসব, বিএনপির নাম ভাঙানোর অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরে আবারও শুরু হয়েছে দখলদারিত্বের মহোৎসব। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই একটি রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে নদীর তীর দখল করে ৫০টিরও বেশি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও দখল কার্যক্রম এখনো চলমান বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের রাত থেকেই বাঁকখালীর কস্তুরাঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়। দখলদাররা দ্রুততার সাথে টিন দিয়ে অসংখ্য ঘর তৈরি করে ফেলেন। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর তীর দখলমুক্ত করা হয়েছিল। তবে এবার নির্বাচনের পরপরই আবারও সেই পুরোনো দখলদাররাই সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নদীর শাসন ও সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই দখল কার্যক্রম বন্ধের জন্য ১৫টি সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, যাদের আগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, তারাই আবার দখল কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, দখল প্রক্রিয়ায় বিএনপির নাম ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও দলটির স্থানীয় নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। কক্সবাজার শহর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাফায়াত মুন্না সাংবাদিকদের বলেন, দখলদাররা বিএনপির ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার করে নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছিল। তবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের নির্দেশে তারা এই অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে দিয়েছেন। তার মতে, আগের দখলদাররাই বিএনপির নাম ব্যবহার করে নদী দখলের চেষ্টা করছে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বাঁকখালী নদীর তীর দখলকারীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই দখল প্রক্রিয়ার সাথে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

নির্বাচনের পরপরই বাঁকখালীর তীর দখলের মহোৎসব, বিএনপির নাম ভাঙানোর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরে আবারও শুরু হয়েছে দখলদারিত্বের মহোৎসব। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই একটি রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে নদীর তীর দখল করে ৫০টিরও বেশি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও দখল কার্যক্রম এখনো চলমান বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের রাত থেকেই বাঁকখালীর কস্তুরাঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়। দখলদাররা দ্রুততার সাথে টিন দিয়ে অসংখ্য ঘর তৈরি করে ফেলেন। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর তীর দখলমুক্ত করা হয়েছিল। তবে এবার নির্বাচনের পরপরই আবারও সেই পুরোনো দখলদাররাই সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নদীর শাসন ও সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই দখল কার্যক্রম বন্ধের জন্য ১৫টি সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, যাদের আগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, তারাই আবার দখল কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, দখল প্রক্রিয়ায় বিএনপির নাম ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও দলটির স্থানীয় নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। কক্সবাজার শহর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাফায়াত মুন্না সাংবাদিকদের বলেন, দখলদাররা বিএনপির ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার করে নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছিল। তবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের নির্দেশে তারা এই অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে দিয়েছেন। তার মতে, আগের দখলদাররাই বিএনপির নাম ব্যবহার করে নদী দখলের চেষ্টা করছে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বাঁকখালী নদীর তীর দখলকারীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই দখল প্রক্রিয়ার সাথে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।