ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

আল-তানফ ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সিরিয়ার হাতে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সিরিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-তানফ সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবশিষ্ট সেনা ইউনিট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই প্রত্যাহারের পর পরই ইরাক ও জর্ডান সীমান্তের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘স্বেচ্ছায় ও শর্তসাপেক্ষে’ এই ঘাঁটি নিজেদের দখলে রেখেছিল ওয়াশিংটন।

বৃহস্পতিবার সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, সিরিয়ার আরব সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো ‘সিরীয় ও আমেরিকান পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে’ আল-তানফের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বর্তমানে ঘাঁটি এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকা সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে, সিরীয়-ইরাকি-জর্ডান সীমান্তের কাছে সামরিক ইউনিট স্থাপন শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সীমান্তরক্ষীদেরও সেখানে মোতায়েন করা হবে।

আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে যে, ‘শর্তের অংশ হিসেবে সুশৃঙ্খলভাবে সেনাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে’। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের পুনরুত্থান রোধে অংশীদারদের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে উদ্ভূত যেকোনো ‘আইএসআইএল’ হুমকির মোকাবিলায় তাদের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইএসআইএল-এর উপর চাপ বজায় রাখা আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং এর প্রভাব প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য।

আল-তানফ ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা মূলত আইএসআইএস-বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সম্মিলিত টাস্ক ফোর্স-অপারেশন ইনহেরেন্ট রেজলভের অংশ ছিল। পেন্টাগন গত এপ্রিলে ঘোষণা করেছিল যে, তারা ২০২৫ সালের মধ্যে সিরিয়ায় মোতায়েন করা সেনা প্রত্যাহার করবে। আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালে এই অঞ্চলে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল, এবং সেই ঘোষণাই এখন বাস্তবায়িত হলো।

মূলত ২০১৪ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জোটের অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের সাবেক নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা আইএসআইএল-বিরোধী জোটে যোগ দেন। এর কয়েক মাস পরেই সিরিয়ার এই ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলো। একসময় শারাকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে বিবেচনা করত আমেরিকা, এমনকি তার মাথার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন শারা সরকারকে সিরিয়ার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচুর বিনিয়োগ করছে বলে জানা গেছে।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। যদিও দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সিরিয়ার বর্তমান সামরিক বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিভিন্ন গোষ্ঠী থেকে আসা সদস্যদের নিয়ে গঠিত। তবে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে, তারা সিরিয়ার নতুন নেতা হিসেবে আল-শারাকে সমর্থন করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাবিক নয়, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের দূত: নৌ প্রতিমন্ত্রী

আল-তানফ ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সিরিয়ার হাতে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-তানফ সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবশিষ্ট সেনা ইউনিট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই প্রত্যাহারের পর পরই ইরাক ও জর্ডান সীমান্তের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘স্বেচ্ছায় ও শর্তসাপেক্ষে’ এই ঘাঁটি নিজেদের দখলে রেখেছিল ওয়াশিংটন।

বৃহস্পতিবার সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, সিরিয়ার আরব সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো ‘সিরীয় ও আমেরিকান পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে’ আল-তানফের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বর্তমানে ঘাঁটি এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকা সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে, সিরীয়-ইরাকি-জর্ডান সীমান্তের কাছে সামরিক ইউনিট স্থাপন শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সীমান্তরক্ষীদেরও সেখানে মোতায়েন করা হবে।

আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে যে, ‘শর্তের অংশ হিসেবে সুশৃঙ্খলভাবে সেনাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে’। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের পুনরুত্থান রোধে অংশীদারদের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে উদ্ভূত যেকোনো ‘আইএসআইএল’ হুমকির মোকাবিলায় তাদের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইএসআইএল-এর উপর চাপ বজায় রাখা আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং এর প্রভাব প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য।

আল-তানফ ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা মূলত আইএসআইএস-বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সম্মিলিত টাস্ক ফোর্স-অপারেশন ইনহেরেন্ট রেজলভের অংশ ছিল। পেন্টাগন গত এপ্রিলে ঘোষণা করেছিল যে, তারা ২০২৫ সালের মধ্যে সিরিয়ায় মোতায়েন করা সেনা প্রত্যাহার করবে। আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালে এই অঞ্চলে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল, এবং সেই ঘোষণাই এখন বাস্তবায়িত হলো।

মূলত ২০১৪ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জোটের অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের সাবেক নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা আইএসআইএল-বিরোধী জোটে যোগ দেন। এর কয়েক মাস পরেই সিরিয়ার এই ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলো। একসময় শারাকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে বিবেচনা করত আমেরিকা, এমনকি তার মাথার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন শারা সরকারকে সিরিয়ার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচুর বিনিয়োগ করছে বলে জানা গেছে।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। যদিও দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সিরিয়ার বর্তমান সামরিক বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিভিন্ন গোষ্ঠী থেকে আসা সদস্যদের নিয়ে গঠিত। তবে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে, তারা সিরিয়ার নতুন নেতা হিসেবে আল-শারাকে সমর্থন করে।