ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বক্তৃতা ও সমাবেশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে সন্ত্রাসী ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করলো যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত এক যুগান্তকারী রায়ে ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। লন্ডনের উচ্চ আদালতে শুক্রবার ঘোষিত এই রায়ে বলা হয়েছে, সরকারের এই পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকারের ওপর ‘অত্যন্ত গুরুতর হস্তক্ষেপ’ সৃষ্টি করেছে এবং এটি আইনসম্মত ছিল না।

বিচারপতি ভিক্টোরিইয়া শার্প তাঁর রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত আইনানুগ ছিল না। এই রায়টি আসে সংগঠনটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরির দায়ের করা একটি বিচারিক পুনর্বিবেচনা আবেদনের প্রেক্ষিতে।

স্মর্তব্য, পূর্বের এক সরকারি সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্য সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংগঠনটির সদস্যপদ গ্রহণ, প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো বা তাদের প্রতীক প্রদর্শন করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। এর জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাজ্যজুড়ে শতাধিক ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

সরকার এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে যুক্তি দিয়েছিল যে, গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর কর্মীরা দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করে দুটি বিমানের প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৯.৩ মিলিয়ন ডলার) সমমূল্যের ক্ষতি সাধন করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আদালতে লিখিত যুক্তিতে জানিয়েছিল, “কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংসতা না হলেও, গুরুতর সম্পত্তি ক্ষতির ঘটনা সন্ত্রাসবাদ হিসেবে গণ্য হতে পারে।” তাদের দাবি ছিল, নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোকে “প্রচার ও আর্থিক সহায়তার অক্সিজেন” থেকে বঞ্চিত করাই আইনের উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী নাতাশা বার্নস আদালতে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে বা গাজায় ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া থেকে কাউকে বিরত রাখেনি।

তবে উচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর আরোপিত সন্ত্রাসী তকমা প্রত্যাহার হলো। একইসঙ্গে, সংগঠনটির বিরুদ্ধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের সূচনা হয়েছে। এই রায় বাকস্বাধীনতা ও প্রতিবাদের অধিকারের গুরুত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করলো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় আহত শিবির নেতা সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর

বক্তৃতা ও সমাবেশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে সন্ত্রাসী ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করলো যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত এক যুগান্তকারী রায়ে ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। লন্ডনের উচ্চ আদালতে শুক্রবার ঘোষিত এই রায়ে বলা হয়েছে, সরকারের এই পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকারের ওপর ‘অত্যন্ত গুরুতর হস্তক্ষেপ’ সৃষ্টি করেছে এবং এটি আইনসম্মত ছিল না।

বিচারপতি ভিক্টোরিইয়া শার্প তাঁর রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত আইনানুগ ছিল না। এই রায়টি আসে সংগঠনটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরির দায়ের করা একটি বিচারিক পুনর্বিবেচনা আবেদনের প্রেক্ষিতে।

স্মর্তব্য, পূর্বের এক সরকারি সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্য সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংগঠনটির সদস্যপদ গ্রহণ, প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো বা তাদের প্রতীক প্রদর্শন করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। এর জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাজ্যজুড়ে শতাধিক ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

সরকার এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে যুক্তি দিয়েছিল যে, গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর কর্মীরা দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করে দুটি বিমানের প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৯.৩ মিলিয়ন ডলার) সমমূল্যের ক্ষতি সাধন করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আদালতে লিখিত যুক্তিতে জানিয়েছিল, “কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংসতা না হলেও, গুরুতর সম্পত্তি ক্ষতির ঘটনা সন্ত্রাসবাদ হিসেবে গণ্য হতে পারে।” তাদের দাবি ছিল, নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোকে “প্রচার ও আর্থিক সহায়তার অক্সিজেন” থেকে বঞ্চিত করাই আইনের উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী নাতাশা বার্নস আদালতে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে বা গাজায় ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া থেকে কাউকে বিরত রাখেনি।

তবে উচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর আরোপিত সন্ত্রাসী তকমা প্রত্যাহার হলো। একইসঙ্গে, সংগঠনটির বিরুদ্ধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের সূচনা হয়েছে। এই রায় বাকস্বাধীনতা ও প্রতিবাদের অধিকারের গুরুত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করলো।