দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর আগামী ৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ঢাকায় বসছে বাংলাদেশ ও তুরস্কের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের চতুর্থ বৈঠক। রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও নিবিড় করা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়ে অংশীদারত্বে রূপ দেওয়াই হবে এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তুরস্কের পক্ষে নেতৃত্ব দিতে ৬ অক্টোবর ঢাকায় আসছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিন্চি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠক শেষে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গেও সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলো আলোচনায় আসছে
আগামী সপ্তাহের এই বৈঠকটিকে ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের সব দিক নিয়ে আলোচনা হলেও, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যের বেশিরভাগই বাংলাদেশ আমদানি করে, তাই তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর পথ খোঁজা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, “দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের সব বিষয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ বেড়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়াও জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।”
কর্মকর্তারা বলছেন, তুরস্কের আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে তুরস্ককে নতুন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা নিয়ে আলোচনা চলছে। তুরস্কের জ্বালানি শোধনাগার প্রযুক্তি ও এলএনজি/নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতাকে কীভাবে পারস্পরিক সহায়তায় ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও কথা হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও ঘনিষ্ঠতা
গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তুরস্ক তৃতীয় দেশ, যার সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক হচ্ছে। এর আগে ডিসেম্বরে ভারতের সঙ্গে এবং এপ্রিলে পাকিস্তানের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের সফরে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী একিন্চি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করবেন।
এদিকে, গত আগস্টের পর থেকে ঢাকা-আঙ্কারার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের অনেকগুলো সফর বিনিময় হয়েছে। এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমের বোলাট এবং জুলাই মাসে প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থার প্রধান হালুক গরগুন ঢাকা সফর করেন। গরগুন তার সফরে বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
এই ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের সফরের পর অনুষ্ঠেয় সচিব পর্যায়ের বৈঠকটি দুই দেশের অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিসরের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে দুই দেশের অভিন্ন সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















