ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট স্থগিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

টানা অচলাবস্থার পর চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে পরিষদের নেতা মো. হুমায়ূন কবীর ও মো. ইব্রাহীম খোকন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন রমজানের পণ্য খালাসের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ও বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে শ্রমিকদের প্রধান দাবি—‘এনসিটি চুক্তি বর্তমান সরকারের আমলে না করা’—প্রতিফলিত হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক ঘোষণার পর শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের ফলপ্রসূ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ধর্মঘট স্থগিত করা হলেও শ্রমিকদের ওপর নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো নিয়ে ক্ষোভ কমেনি। বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, আন্দোলনরত পাঁচ কর্মচারীর গ্রেপ্তার ও মামলা প্রত্যাহার, ১৫ জনের বদলি আদেশ বাতিল, বাসা বরাদ্দ ফিরিয়ে দেওয়া এবং ১৬ জন কর্মচারীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ তুলে না নিলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ফলে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আভাস মিললেও ১৫ শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের আবেদনের খবরে শনিবার আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। যার ফলে রোববার দিনভর বন্দরে কাজ বন্ধ ছিল।

অবশেষে সরকারের শীর্ষ মহলের আশ্বাস এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় আগামী সাত দিনের জন্য কাজে ফেরার ঘোষণা দিলেন বন্দর শ্রমিকরা। এই স্থগিতাদেশের ফলে বন্দরের জেটি, টার্মিনাল ও কনটেইনার ডিপোগুলোতে জমে থাকা পণ্যের জট কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট স্থগিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা

আপডেট সময় : ১২:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টানা অচলাবস্থার পর চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে পরিষদের নেতা মো. হুমায়ূন কবীর ও মো. ইব্রাহীম খোকন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন রমজানের পণ্য খালাসের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ও বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে শ্রমিকদের প্রধান দাবি—‘এনসিটি চুক্তি বর্তমান সরকারের আমলে না করা’—প্রতিফলিত হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক ঘোষণার পর শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের ফলপ্রসূ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ধর্মঘট স্থগিত করা হলেও শ্রমিকদের ওপর নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো নিয়ে ক্ষোভ কমেনি। বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, আন্দোলনরত পাঁচ কর্মচারীর গ্রেপ্তার ও মামলা প্রত্যাহার, ১৫ জনের বদলি আদেশ বাতিল, বাসা বরাদ্দ ফিরিয়ে দেওয়া এবং ১৬ জন কর্মচারীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ তুলে না নিলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ফলে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আভাস মিললেও ১৫ শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের আবেদনের খবরে শনিবার আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। যার ফলে রোববার দিনভর বন্দরে কাজ বন্ধ ছিল।

অবশেষে সরকারের শীর্ষ মহলের আশ্বাস এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় আগামী সাত দিনের জন্য কাজে ফেরার ঘোষণা দিলেন বন্দর শ্রমিকরা। এই স্থগিতাদেশের ফলে বন্দরের জেটি, টার্মিনাল ও কনটেইনার ডিপোগুলোতে জমে থাকা পণ্যের জট কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।